মাহিন মহিউদ্দিন জিডিতে উল্লেখ করেন, তিনি পেশায় একজন মোবাইল যন্ত্রাংশের খুচরা ব্যবসায়ী। মোবাইল ফোন মেরামতও করে থাকেন। রাজধানীর জাপান গার্ডেন সিটির পাশে টোকিও সেন্টারের ষষ্ঠ তলায় তার দোকান ।
জিডিতে অভিযোগ করা হয়, গত ৪মে জহিরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি আসেন মহিউদ্দিনের কাছে। নিজেকে সিলেট জেলার সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পরিচয় দেন। ওই পরিচয়ের সূত্র ধরে মাঝে-মধ্যেই তার দোকানে আসা-যাওয়া করতেন জহিরুল ইসলাম। দু’জনের আলাপচারিতার একপর্যায়ে জহিরুল ইসলাম জানান, তার স্ত্রী মন্ত্রণালয়ে চাকরি করেন। সেই সুবাদে কারও চাকরির দরকার হলে তিনি যেন তার (ভুয়া এএসপি জহিরুল ইসলাম) সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
জিডি ও টাকা দিয়ে চাকরি নেওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নূর আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি জিডির কথা কিছু জানি না। তবে যার কথায় টাকা দিয়েছি, সেই মাহিন মহিউদ্দিন আমার পরিচিত। একই এলাকার ছেলে। টাকা পরিশোধের জন্য কোরবানি পর্যন্ত সময় দিয়েছি ।’
নূর আলম আরও বলেন,‘আমার ভাইয়ের মেয়ের জামাই পুলিশের এএসপি। নির্ধারিত সময় পার হলে তাকে (ভাতিজি জামাই) দিয়ে টাকা আদায় করতে সময় লাগবে না’
এএসপি জামাতার পরিচয় দিতে গিয়ে নূর আলম বলেন, ‘আমার আপন বড় ভাইয়ের নাম লাল মিয়া সরকার। তার মেয়ের জামাই এএসপি ফয়সাল আশরাফ ডিএমপিতে কর্মরত।’
ভাতিজি জামাই এএসপি হওয়া সত্ত্বেও ভুয়া এএসপি’র ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি তো বুঝতে পারি নাই যে, তিনি ভুয়া এএসপি। আর মেয়ের জামাইকে কি এসব কথা বলা যায়?
সংশ্লিষ্ট তথ্য মতে, ডাচ বাংলা ব্যাংকে জহিরুল ইসলাম নামের ওই ভুয়া এএসপি’র অ্যাকাউন্ট নম্বর- ১১৫-১০১-১৪৩২৫৭। গত ২৩, ২৫ ও ২৮ মে তিন দফায় সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর ডাচ বাংলা ব্যাংকের শাখা থেকে নূর আলম ওই অ্যাকাউন্ট নম্বরে এক লাখ টাকা করে মোট তিন লাখ টাকা পাঠান।
অভিযোগকারী মাহিন মহিউদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভুয়া এএসপি’র ফাঁদে পড়েছি। অ্যাকাউন্টের তিন লাখ টাকা ছাড়াও আমার কাছ থেকে নগদ আরও পঞ্চাশ হাজার টাকা নিয়েছে সে। বাকি টাকা চাকরি হওয়ার পর দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু চাকরি না দিয়ে ওই টাকা নেওয়ার পর থেকেই সে গায়েব।’
আরও পড়ুন: