সাইকেল ফিরে পাওয়ার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সুমন শামস বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি সাইকেল পেলাম, কিন্তু আমার সাইকেলটি কে চুরি করেছেন, তার সন্ধান পেলাম না। একইসঙ্গে যারা ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন, তাদের উদ্দেশে বলতে চাই, নতুন সাইকেল দিয়ে আপনারা হয়তো আমার একটা ক্ষতিপূরণ দিলেন। তবে এটা কিন্তু আমার সাইকেল না। চোর ধরা না পড়লে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অনুষ্ঠানে অন্য কারও ক্ষেত্রে আমার মতো ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থাকবে।’
গুলিস্তানের নগর ভবনে দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে সুমন শামসের হাতে নতুন সাইকেল তুলে দেন বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবসের আয়োজক ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) সৈয়দ আহমদ। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীন এই সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এর মাধ্যমে আমরা শামসকে একটা ক্ষতিপূরণ দিলাম মাত্র। তার সাইকেলটি তো ফেরত দিতে পারলাম না। এ ধরনের আয়োজনে এমন বিষয় নিয়ে সতর্ক হতে না পারলে ভবিষ্যতে আরও সমস্যায় পড়তে হতে পারে।’
সাইকেল নেওয়ার পর শামস আয়োজকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি আশা করি, যেকোনও দিন আপনাদের কাছ থেকে একটা ফোন পাবো যে আমার সাইকেলের চোর ধরা পড়েছে। আমি সাইকেল পেয়েছি, ঠিক আছে। কিন্তু সাইকেল পাওয়া নয়, আমার সাইকেলটিই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমার ধারণা, চোর ধরা না পড়লে ভবিষ্যতে পরিবেশবাদী এসব অনুষ্ঠানে তরুণদের অংশগ্রহণ কমে যেতে পারে। তাই এ ধরনের অনুষ্ঠানে যারা অংশ নেবেন, আয়োজকদের পক্ষ থেকে তাদের সুরক্ষা দিতে আরও ভালোভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে।’
শামস তার সাইকেল নেওয়া ব্যক্তির উদ্দেশে বলেন, ‘যিনি আমার সাইকেলটি নিয়েছেন, তাকে বলতে চাই- আপনিও ওই অনুষ্ঠানে ছিলেন। আপনিও হয়তো পরিবেশবাদী, আপনিও হয়তো সাইক্লিস্ট। সাইকেলের প্রতি ভালোবাসার বিষয়টি নিশ্চয় আপনি বুঝবেন। আমি আপনাকে বলবো- আমার সাইকেলটি ফেরত দিয়ে আপনি এই নতুন সাইকেলটি নিয়ে যান।’
এরপর ২৮ সেপ্টেম্বর হারানো সাইকেল ফেরত পাওয়ার আশায় শেরে বাংলা নগর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন শামস। জিডি নং-২০২০। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে আয়োজক কর্তৃপক্ষ জানায়, সাইকেলটি ফেরত না পাওয়ায় একইরকম একটি সাইকেল শামসকে দেওয়া হবে। তবে শামস নতুন সাইকেল নয়, তার সাইকেলটিই ফেরত পাওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন। এই সাইকেলটি মূলত তিনি তার স্ত্রী থিয়েটারকর্মী শারমিন আক্তার শর্মীকে কিনে দিয়েছিলেন।