এ নিয়ে বাংলা ট্রিবিউনে গত ৮ ডিসেম্বর বিলের টাকার জন্য নবজাতককে হাসপাতালে আটকে রাখার অভিযোগ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এরপরই নড়েচড়ে বসে কেয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। শনিবার হাসপাতাল থেকে জানানো হয়, শিশুটিকে তারা ভেন্টিলেশন সুবিধাসহ চিকিৎসার যাবতীয় ব্যবস্থা করে শিশু হাসপাতালে ট্রান্সফার করবে। একইসঙ্গে ৩ থেকে আজ শনিবার পর্যন্ত আসা বিলের ৮৪ হাজার টাকা ও ডাক্তার বিল ১২ হাজার টাকা ছাড় দেবে। অভিভাবকের আর্থিক সামর্থ্যের কথা বিবেচনা করে তারা এ ছাড় দিচ্ছে। কেয়ার হাসপাতাল থেকে দেওয়া ছাড়পত্রে দেখা গেছে, ৩ থেকে ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত হাসপাতালের বিল এসেছে ৮৪ হাজার ৩৭৫ টাকা। এছাড়া, চিকিৎসক বিল এসেছে ১২ হাজার টাকা। মোট বিল ৯৬ হাজার ৩৭৫ টাকা।
পরে বিল মওকুফ করে নবজাতককে ছাড়পত্র দিয়ে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ঢাকা শিশু হাসপাতালে পাঠানো হয়। কেয়ার মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হসপিটালের নবজাতক ও শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. গোলাম মোরশেদ সুমন বলেন, ‘আমরা পেশেন্টের পরিবারের আর্থিক সমস্যার কারণে তার বকেয়া বিল ছাড় দিয়েছি। এছাড়া, তার চিকিৎসার যাতে কোনও ঘাটতি না হয়, সেজন্য শিশু হাসপাতালে সব ব্যবস্থা করা হয়েছে।’
কিন্তু ওই হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে শিশুটিকে ভর্তি করা হয়েছে নন-পেয়িং বেডে। যেখানে এই শিশুর প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই। সেখানে তাকে সাময়িক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ভেন্টিলেশনসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য তাকে রাখতে হবে কেবিনে।
শিশু হাসপাতালের এনআইসিইউয়ের ইনচার্জ ড. ইয়ামিন বলেন, ‘শিশুটির জন্য এখন প্রয়োজন ভ্যান্টিলেশন (কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস যন্ত্র)। এছাড়া, আরও অনেকগুলো সমস্যা রয়েছে। যার চিকিৎসা নন-পেয়িং বেডে সম্ভব নয়। তারপরও আমরা শিশুটির শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে সাময়িক চিকিৎসা দিচ্ছি। আমাদের এখানে ভ্যান্টিলেশনের জন্য প্রতিদিন ছয় হাজার টাকা প্রয়োজন।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিশু হাসপাতালে আরেকজন চিকিৎসক বলেন, শিশুটির জন্য জরুরিভিত্তিতে যথার্থ চিকিৎসা প্রয়োজন। যা নন-পেয়িং বেডে সম্ভব নয়। আমাদের হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যদি এজন্য সুপারিশ করে, তাহলেই এখানে শিশুটির সঠিক চিকিৎসা পাওয়া সম্ভব।’ শিশুটির জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলেও জানান তিনি।
শিশু হাসপাতালে এই পরিস্থিতি দেখার পর কেয়ার হাসপাতালের নবজাতক ও শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. গোলাম মোরশেদ সুমনকে একাধিকার ফোন করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।