‘আইনের মধ্য দিয়েও শোষণ চলতে পারে’

নারী সংহতির মতবিনিময় সভায় বক্তারা‘দেশে আইনের শাসন থাকলেই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হবে না। বাংলাদেশের আইনগুলোও অনেক ক্ষেত্রে ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আইনের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে চলেছে। আইনের মধ্য দিয়েও শোষণ চলতে পারে— যদি না এই আইন দেশের মানুষের মানবিক মর্যাদা রক্ষায় কাজে লাগে।’, এ কথাগুলো বলেছেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া।

শুক্রবার বিকালে বিপ্লবী নারী সংহতির আয়োজনে নারী দিবস এবং নারী সংহতির ১৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সংগঠনটির দুদিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে ‘উন্নয়নের গল্পকথায় নারীর নিরাপত্তা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভাটি পুরানা পল্টনের মুক্তি ভবনের প্রগতি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

নারী সংহতির পক্ষ থেকে মতবিনিময় সভার শুরুতে মুক্তিযোদ্ধা-ভাস্কর ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে একমিনিট নীরবতা পালন করা হয়।    

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরীন বলেন, ‘শিশুকাল থেকেই আমাদের পুরুষতান্ত্রিক ছাঁচে ঢালা কাঠামোতে রোল মডেল শেখানো হয়। এখনকার ছেলে-মেয়েরা অনেক বেশি অনিরাপদ পৃথিবীতে বড় হচ্ছে। তবে তারা নিপীড়নের বিষয়ে জানানোর জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করতে পারছে, এটা একটা ইতিবাচক দিক।’
লেখক ও গবেষক রেহনুমা আহমেদ বলেন, ‘পুরো দেশ আজ  দুই ভাগে বিভক্ত। একদিকে মানুষ—অন্যদিকে নিপীড়কেরা। পুরো ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করা কঠিন হলেও তা প্রয়োজন।’

নারী সংহতির কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক কানিজ ফাতেমা সংগঠনের পক্ষ থেকে একটি লিখিত বক্তব্য পড়েন। এতে তিনি বলেন, ‘প্রতিদিনের অস্বাভাবিক মৃত্যু, খুন-গুম আর নিপীড়নের ঘটনাবলীতে মানুষের আতঙ্ক এবং ক্ষোভ বাড়ছে। দুর্বৃত্তদের হামলা, আতঙ্ক সৃষ্টি করা, বর্বরতা  কোনোভাবেই ‘উন্নয়ন’-এর  গল্প দিয়ে ধামাচাপা দেওয়া যাচ্ছে না। উৎসবে হামলা করা থেকে শুরু করে যৌন সন্ত্রাসসহ সাম্প্রতিক বর্বর হত্যার শিকার হচ্ছেন পাহাড়ে-সমতলের সব বয়সের নারীরা। কিন্তু এসব ধর্ষক এবং খুনিদের ধরতে ব্যর্থ কিংবা অনিচ্ছুক সরকার।’

মতবিনিময় সভায় হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সদস্য ও বাংলাদেশ আদিবাসী নারী নেটওয়ার্কের সদস্য হেলি চাকমা বলেন, ‘একজন নারী এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারী হিসেবে আমরা নির্যাতিত হই। পার্বত্য চট্টগ্রামে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর  নারীরা সেনা সদস্যদের হাতে নির্যাতনের শিকার হন। এর ফলে অন্যরাও অপরাধ করতে ভয় পায় না। এভাবে দেশে নারী নির্যাতনের প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে গেছে।’

মতবিনিময় সভা সঞ্চালনা করেন নারী সংহতির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট জান্নাতুল মরিয়ম। সভায় আরও বক্তব্য দেন, সিপিবির নারী সেলের কেন্দ্রীয় সদস্য লুনা নূর, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি রওশন আরা রুশো, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য শামসুন্নাহার জোসনা, বিপ্লবী নারী ফোরামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক আমেনা বেগম, গবেষক নাজনীন শিফা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অরূপ রাহী, সংগীত সংস্কৃতি প্রাঙ্গণের বীথি ঘোষ, গণসংহতি আন্দোলনের সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য জুল হাসনাইন বাবু, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি গোলাম মোস্তফাসহ বিভিন্ন প্রগতিশীল রাজনৈতিক ও নারী সংগঠনের নেতারা। এছাড়া মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন— নারী সংহতির সাধারণ সম্পাদক অপরাজিতা চন্দ, সহসাধারণ সম্পাদক রেবেকা নীলা, কেন্দ্রীয় সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন প্রমুখ।