দেশের শীর্ষস্থানীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনের আয়োজনে ‘বিশ্লেষণে গাজীপুর সিটি নির্বাচন’ শীর্ষক বৈঠকিতে তিনি এসব কথা বলেন।
বৃহস্পতিবার (২৮ জুন) বিকাল সাড়ে ৪টায় শুরু হওয়া বাংলা ট্রিবিউন বৈঠকি রাজধানীর শুক্রাবাদে বাংলা ট্রিবিউন স্টুডিও থেকে সরাসরি সম্প্রচার করে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন নিউজ। পাশাপাশি বাংলা ট্রিবিউনের ফেসবুক ও হোমপেজে লাইভ দেখা যায় এ বৈঠকি।
ড. তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগতভাবে গাজীপুর সিটি নির্বাচন নিয়ে খুব একটা পর্যবেক্ষণ নেই। কয়েকটি পত্রিকা এবং কয়েকটি পর্যবেক্ষক গ্রুপই আমার জ্ঞানের পরিধি। এর বাইরে আমার তেমন কোনও জ্ঞান নেই। দেশে ধারাবাহিকভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে নির্বাচনকে ৩টা কালপর্বে ভাগ করা যায়। ১৯৯১-পূর্ব নির্বাচন, ১৯৯১ থেকে ২০০৮ এবং ২০০৮ থেকে বর্তমান পর্যন্ত। এরমধ্যে নির্বাচনেরও ব্যাপক উত্থান-পতন দেখা গেছে। ১৯৯১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত দেশে এক ধরনের নির্বাচনের সংস্কৃতি গড়ে তুলেছিলাম। সর্বশেষ ২০১৪-এর পর থেকে দেশে নির্বাচনটি ভিন্নখাতে প্রভাবিত হচ্ছে। ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সালের যে প্রভাব ছিল সেটার মতো করেই এখন ফিরে এসেছে। ফলে এটাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।’
তিনি বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের নির্বাচন থেকে শুরু করে কুমিল্লা, রংপুর, খুলনা এবং সর্বশেষ গাজীপুর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, রংপুর নিয়েও নানা প্রশ্ন আছে। তবে সম্প্রতি খুলনা ও গাজীপুরের নির্বাচন নিয়ে যদি কথা বলতে হয় তাহলে বলতে হবে, নির্বাচনটি বাইরে থেকে দেখা গেলো বেশ ভালো-শান্তিপূর্ণ। কিন্তু প্রশাসনিক ম্যানিপুলেট দেখা গেছে। বাইরে দেখা যাচ্ছে শান্তিপূর্ণ, কিন্তু ভেতরে কী হচ্ছে তা বোঝা যাচ্ছে না। খালি চোখে তা দেখা যাবে না। প্রমাণ করাও খুব কঠিন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি বলছি না নির্বাচনে মহা অনিয়ম হয়েছে। কিন্তু কিছু প্রশ্ন রয়েছে। এসব প্রশ্নের উত্তর আগামী নির্বাচনগুলোর স্বার্থে খুঁজতে হবে। কিন্তু কমিশন তা কতটুকু করছে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। শুধু তা-ই নয়, বিগত নির্বাচনগুলো নিয়েও যত অভিযোগ ও প্রশ্ন উঠেছে, তা নিয়ে নির্বাচন কমিশন কি তদন্ত করেছে? করেনি। ফলে আগামী নির্বাচনগুলোও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে হলে বিগত সময়ের নির্বাচনে ওঠা অভিযোগগুলো তদন্ত করতে হবে। সবাইকে জানাতে হবে, জনগণকে পরিষ্কার করতে হবে অভিযোগগুলো কতখানি সঠিক, কতখানি বেঠিক।’