এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘আজকের রায় ঘোষণার দিন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। এর মাধ্যমে উচ্চতর ও বিচারিক আদালতের নির্দেশের প্রতি তারা অবজ্ঞা প্রদর্শন করেছেন।’
আইনজীবী কাজল জানান, প্রসিকিউশন পক্ষের ৩২টি দাখিলকৃত সাক্ষ্যের আলোকে ১৯৪৭ সালের আইনের ৫-এর ২ এবং ১০৯ ধারার আলোকে আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়েছিল।
মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, সাক্ষ্য প্রমাণের আলোকে আদালত ১৫টি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে বলেছেন, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে থেকে এ ধরনের অবৈধ অর্থ উপার্জন, ক্ষমতার অপব্যবহার করে দলীয় ফান্ড ও বিভিন্ন ব্যক্তির থেকে টাকা নিয়ে এবং বিভিন্ন আসামির সহায়তা নিয়ে এমন কাজ আর কেউ যাতে না করে। আদালত এ সময় বার্তা দিয়ে বলেছেন, যারা ক্ষতায় আছেন তাদের জন্য এবং যারা ক্ষমতায় ছিলেন তাদের জন্যও আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। এ জন্য এই ধরনের অপরাধ থেকে তাদের দূরে থাকার জন্য আদালত নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে তথ্য গোপন করে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার হিসাব পরিচালনা করেন। পাশাপাশি তিনি ওই ট্রাস্টের টাকা আত্মসাৎ করেন। এছাড়া পার্টি ফান্ড থেকেও দলের কোনও সিদ্ধান্ত ছাড়া তিনি টাকা গ্রহণ করেছিলেন। অর্থ আত্মসাতে খালেদা জিয়াকে তার সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছ চৌধুরীর তখনকার একান্ত সচিব জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান সহায়তা করেন।
তিনি আরও জানান, মেট্রোমেকার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের ফান্ডে এক কোটি ৩৫ লাখ টাকা প্রদান করেছে বলে জানানো হয়। তবে ওই প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা আদালতকে জানিয়েছেন তারা এমন কোনও ফান্ডে টাকা অনুদান দেননি।
সোমবার ঘোষিত রায়ে আদালত আসামিদের প্রত্যেককে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। পাশাপাশি প্রত্যেককে ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত ৫-এর বিচারক আখতারুজ্জামান এই রায় ঘোষণা করেন। আদালত ট্রাস্টের নামে কেনা ঢাকা শহরে থাকা ৪২ কাঠা জমিও রাষ্ট্রায়ত্ত করার আদেশ দিয়েছেন।
খালেদা জিয়া ছাড়া সাজাপ্রাপ্ত অন্য তিন আসামি হলেন খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছ চৌধুরীর তখনকার একান্ত সচিব জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান। মামলা দায়েরের আগে থেকেই হারিছ চৌধুরী পলাতক রয়েছেন।
এর আগে, গত ১৬ অক্টোবর আদালত রায় ঘোষণার এই তারিখ নির্ধারণ করেন। আজ রায় ঘোষণার সময় আসামিপক্ষের আইনজীবীরা কেউ উপস্থিত ছিলেন না। চিকিৎসাধীন থাকায় খালেদা জিয়াও আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।
জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় এ মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
আরও পড়ুন:
খালেদা জিয়ার ৭ বছরের জেল
আমরা মনে করি রিভিউ করা দরকার: জয়নুল আবেদীন
এগুলো সব একতরফা রায়: সানাউল্লাহ মিয়া