নিমতলীর ঘটনায় দেওয়া সুপারিশ আমলারা বাস্তবায়ন করতে পারেনি: হাইকোর্ট

হাইকোর্ট

২০১০ সালে নিমতলীর অগ্নিকাণ্ডের পর এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে ১৭ দফা সুপারিশ দিয়েছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। অথচ সে সুপারিশমালা এত বছরেও বাস্তবায়ন না করায় অসন্তোষ প্রকাশ করে হাইকোর্ট বলেছেন, ‘দেশের উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিন-রাত দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়াচ্ছেন, অথচ নিমতলীর ঘটনার পর আমলারা এত বছরেও একটি সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে পারেনি।’

চকবাজারের চুড়িহাট্টায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হতাহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া, পুরান ঢাকা থেকে কেমিক্যাল গোডাউন, গ্যাস সিলিন্ডার অপসারণ এবং নিমতলীর ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির ১৭ দফা সুপারিশ বাস্তবায়নের নির্দেশনা চেয়ে করা পৃথক চারটি রিটের শুনানিকালে মঙ্গলবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না, ইউনুছ আলী আকন্দ, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ও মো. রিয়াজ উদ্দিন। তাদের সঙ্গে ছিলেন সাগুফতা তাবাসসুম ও মাক্কিয়া ফাতেমা ইসলাম। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ বি এম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

শুনানির শুরুতেই আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ তার রিট আবেদন পড়েন এবং ১৭ দফা সুপারিশ বাস্তবায়ন, সব কেমিক্যাল গোডাউন ঢাকার বাইরে স্থানান্তর ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আরজি জানান।

এরপর ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল তার রিটের শুনানিতে নিমতলীর দুর্ঘটনার পর গঠিত ১৭ দফা সুপারিশ বাস্তবায়ন করার সুপারিশ করেন। এ সময় আদালত বলেন, ‘ওই সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন হলে তো ৮০ শতাংশ দুর্ঘটনার সমাধান করা যায়।’

এরপর জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না তার আবেদনের শুনানি করেন। তিনি আদালতকে বলেন, এমন শহরে বসবাস করছি যেখানে হাঁটা যায় না, মানুষ মারা গেলে লাশ নেওয়ার জায়গা পাওয়া যায় না, এমনকি মানুষের কবর দেওয়ারও জায়গা পাওয়া যায় না। তাই আমাদের আরজি হলো, আগামী ২৫ বছরের মধ্যেও যেন এ শহরের মধ্যে কোনও শিল্প-কারখানা গড়ে তোলার সুযোগ না দেওয়া হয়।

এ পর্যায়ে আদালত বলেন, ‘সরকার তো বসে নেই। তারা কাজ করছে। তারা ইতিমধ্যে ১০০টি শিল্পাঞ্চল গড়ে তুলেছে। তবে আসল কথা হলো পুরো শহরের জন্য একটি মাস্টার প্লান দরকার। প্রতিটি কল-কারখানায় সেফটি জোন থাকতে হবে, প্রয়োজন মতো জায়গা থাকতে হবে।’

এরপর রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম তার শুনানিতে চকবাজারের অগ্নিকাণ্ডের পর যেসব কমিটি গঠন করা হয়েছে আদালতকে তার বর্ণনা দেন। তখন আদালত বলেন, ‘সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন না করে  ১শ’ কমিটি করেও কোনও লাভ হবে না। বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিন-রাত দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়াচ্ছেন, অথচ নিমতলীর ঘটনার পর আমলারা এত বছরেও একটি সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে পারেনি।’

এরপর আদালত তিনটি রিট আবেদন মুলতবি রেখে একটি রিট আবেদনের ওপর অগ্নি নির্বাপনের ১৭ দফা সুপারিশ বাস্তবায়ন না করায় সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের নিস্ক্রিয়তাকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। একইসঙ্গে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে মামলার বিবাদী মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন মন্ত্রণালয় সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সচিব, শিল্প মন্ত্রণালয় সচিব ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের  এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়। 

এর আগে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুস আলী আকন্দ, অ্যাডভোকেট অমিত দাস গুপ্ত, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, ব্যারিস্টার নূর মোহাম্মদ আজমী ও খন্দকার মো. সায়েদুল কাউছার এবং সাগুফতা তাবাসসুম হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় পৃথক চারটি রিট দায়ের করেন।

এসব রিটে হতাহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া, পুরান ঢাকা থেকে কেমিক্যালের গোডাউন ও কারখানা অপসারণ ও বিক্রির উদ্দেশ্যে মজুত করা গ্যাস সিলিন্ডার অপসারণের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিমতলী ট্র্যাজেডির ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির ১৭ দফা সুপারিশ বাস্তবায়নের নির্দেশনা চাওয়া হয়।