৫০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হলে রাজধানীর ড্রেনেজ ব্যবস্থা সাপোর্ট করে না বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র সাঈদ খোকন। তিনি বলেন, অতিবর্ষণে জলাবদ্ধতা হবে না— এটা শতভাগ বলতে পারবো না। কারণ, বিশ্বের অনেক শহরে ভারী বর্ষণ হলে জলাবদ্ধতা হয়। এ সমস্যা পৃথিবীজুড়েই।
শনিবার (২৭ এপ্রিল) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘আসন্ন বর্ষায় জলাবদ্ধতা নিরসনে জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা ও নাগরিকদের করণীয়’ শীর্ষক মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র এসব কথা বলেন।
ঢাকা ইউটিলিটি রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডুরা) এর আয়োজন করে।
সাঈদ খোকন বলেন, ‘তবে আমরা এটাকে (জলাবদ্ধতা) একটা সহনীয় মাত্রায় কমিয়ে আনতে চাই। একেবারেই ভারী বর্ষণ হবে, আর সঙ্গে সঙ্গে পানি নেমে যাবে— এটা বলা যাবে না। একেবারে জলাবদ্ধতা নিরসন করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।’
নগরীর জলাবদ্ধতা বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের এক প্রশ্নের জবাবে ডিএসসিসি মেয়র বলেন, ‘ঢাকা শহরে যদি এক ঘণ্টা অতিমাত্রায় বৃষ্টি হয় তাহলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হবে। তবে সেই পানি নেমে যাবে, কিন্তু তা নামতে তিন-চার ঘণ্টার মতো সময় লাগবে। এখান থেকে বের হয়ে আসা খুব একটা সহজ ব্যাপার নয়।’
তিনি বলেন, ‘যে খালগুলো দিয়ে পানি নেমে যাবে, সেই খালগুলোর চারদিক দখল হয়ে গেছে। যেখানে গিয়ে পানি জমা হবে সেই নিম্নাঞ্চলগুলো বালু দিয়ে ভরাট হয়ে গেছে। স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। যার ফলে পানি নামা খুব কঠিন হয়ে পড়েছে।’
সাঈদ খোকন বলেন, ‘ভারী বর্ষণজনিত জলাবদ্ধতা নিরসনের দায়িত্ব ঢাকা ওয়াসার। তবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় যদি মনে করে এই দায়িত্ব জনগণের কাছে যাদের জবাবদিহিতা আছে, জনগণের কাছে যারা দায়বদ্ধ তাদের দেবেন, তাহলে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে এই দায়িত্ব আমরা নিতে প্রস্তুত আছি। তবে জলাবদ্ধতা নিরসনে ঢাকা ওয়াসা একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এরই মধ্যে আমরা আমাদের আওতাধীন ড্রেনগুলো পরিষ্কার করে ফেলেছি।’
মেয়র বলেন, ‘নগর সেবায় যেভাবে আমাদের সামনে চ্যালেঞ্জ এসেছে সেভাবে সেবা সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বাড়েনি, দুর্বলতা রয়েছে। আমাদের ব্যাপক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে।’
সাঈদ খোকন বলেন, ‘আমরা যখন ড্রেনগুলো পরিষ্কার করি তখন লাখ লাখ বোতল, পলিথিন পাওয়া যায়; এগুলো ড্রেন ব্লক করে দেয়। ফলে ঠিকমতো পানি নামতে পারে না। সাধারণ মানুষ যদি একটু সচেতন হয়, এগুলো যদি যেখানে-সেখানে না ফেলে তাহলে আমাদের জন্য জলাবদ্ধতা নিরসন করা সহজ হবে।’
ডিএসসিসি মেয়র বলেন, ‘আমরা বসে নেই। রাজধানীবাসীকে যেন জলাবদ্ধতার ভোগান্তি পোহাতে না হয়, সেজন্য আমরাও কাজ করছি। শান্তিনগর, নাজিমুদ্দিন রোডের মতো জায়গায় ৪০ বছর বা তার চেয়েও বেশি সময় ধরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতো। এসব এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে আমরা কাজ করেছি। এখন আর আগের মতো এসব এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় না।’
তিনি বলেন, ‘আমি বলতে চাই যেসব খাল দিয়ে পানি নিষ্কাশন হবে সেই খালগুলোর দায়িত্বে রয়েছে জেলা প্রশাসক। রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে আছে ঢাকা ওয়াসা। আর এই খালগুলোতে মানুষের ফেলানো ময়লা আবর্জনা যেন না যায় সেই বিষয়ে মানুষকে বোঝানো, সচেতন করার দায়িত্ব হচ্ছে আমাদের। এসব বিষয়ে এত কমপ্লিকেটেড না হয়ে যদি একটি সংস্থার আন্ডারে নিয়ে আসা যায় তাহলে সেবা প্রদান করা বা কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা সহজ হবে।’
ডুরার সভাপতি সাংবাদিক মশিউর রহমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন রুবেল। এ ছাড়া সভায় সংগঠনের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।