ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা: শিশুদের মুক্তির আদেশ পৌঁছানোর তথ্য চেয়েছেন হাইকোর্ট

ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজাপ্রাপ্ত শিশুদের মুক্তি ও জামিন সংক্রান্ত আদেশের অনুলিপি সংশ্লিষ্ট আদালত ও কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছেছে কিনা, তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল দফতরের মাধ্যমে এ বিষয়ে খোঁজ নিতে সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ অফিসারকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (১১ নভেম্বর) বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে মামলার পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার আব্দুল হালিম। তার সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান।

এরআগে, ৩১ অক্টোবর ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দণ্ডিত হয়ে শিশু উন্নয়নকেন্দ্রে থাকা ১২ বছরের কম বয়সীদের মুক্তির নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে শিশু আদালত ছাড়া অন্যান্য আদালতের অধীনে সাজাপ্রাপ্ত ১২ বছর থেকে ১৮ বছর পর্যন্ত বয়সী শিশুদের ছয় মাসের জামিন দেন হাইকোর্ট। ‘আইনে মানা, তবু ১২১ শিশুর দণ্ড’ শিরোনামে পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি মো. মাহমুদুল হাসান তালুকদারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বপ্রণোদিত হয়ে রুলসহ এ আদেশ দেন।

হাইকোর্ট তার আদেশে, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শিশুদের দণ্ড দেওয়াকে অসাংবিধানিক, অবৈধ এবং বাতিল বলে ঘোষণা করেন। এছাড়াও শিশুদের মধ্যে যাদেরকে ভ্রাম্যমাণ আদালত দণ্ড দিয়েছেন তাদেরকে দ্রুত শিশু উন্নয়নকেন্দ্র বা হাজত থেকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। এছাড়া ৭ কার্যদিবসের মধ্যে ওই ১২১ শিশুকে দণ্ডপ্রদানকারী সংশ্লিষ্ট র‌্যাব কর্মকর্তাদের এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে মামলার যাবতীয় নথি আলাদা করে দাখিল করতে বলেন আদালত।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শিশুদের দণ্ড দেওয়ার বিষয়ে শিশু আইন এবং দণ্ডবিধির বিধি বহির্ভূত হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের দণ্ড কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়েও আদালত রুল জারি করেন। সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের এসব রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

চিলড্রেন চ্যারিটি বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের পক্ষে প্রতিবেদনটি আদালতের নজরে আনেন ব্যারিস্টার আব্দুল হালিম। ওই প্রতিবেদনে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত ১২১জন শিশুকে সাজা দিয়ে তাদের শিশু উন্নয়নকেন্দ্রে পাঠিয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।