পণ্যের হালাল সনদ দেবে বিএসটিআই

উৎপাদিত পণ্য বা সেবার ক্ষেত্রে হালাল সনদ দেবে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন-বিএসটিআই। ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়াজাত দ্রব্য, প্রসাধন সামগ্রী, ফার্মাসিউটিক্যালস এবং অন্যান্য প্রক্রিয়া বা সেবার ক্ষেত্রে উৎপাদনকারী বা প্রক্রিয়াজাতকারীরা চাইলে এই হালাল সনদ নিতে পারবে।

এ লক্ষ্যে সম্প্রতি ‘বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন প্রবিধানমালা ১৯৮৯’ এ সংশোধন করা হয়েছে।

বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক ড. মো. নজরুল আনোয়ারের সই করা  প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘কোনও প্রক্রিয়াজাত দ্রব্যের গায়ে, বা লেবেল অথবা প্রক্রিয়া বা সেবার অনুকূলে হালাল মার্ক ব্যবহার করতে চাইলে সার্টিফিকেশনের জন্য নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে। আবেদনের সঙ্গে প্রক্রিয়াজাত দ্রব্য বা প্রক্রিয়া বা সেবার উপকরণ, দ্রব্য তৈরি বা সেবার পদ্ধতি বর্ণনা বা ব্যবসা পরিচালনার বৈধ হালালাদি এবং প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ পরিদর্শন ও পরীক্ষণ কর্মসূচি ও টেকনিক্যাল ম্যানুয়াল বা প্ল্যান জমা দিতে হবে।’

এতে আরও বলা হয়েছে, ‘‘বিএসটিআইয়ে জমা দেওয়া আবেদন ও কাগজপত্রে উল্লিখিত প্রক্রিয়াজাত দ্রব্য বা প্রক্রিয়া বা সেবা সংশ্লিষ্ট ‘আন্তর্জাতিক মান’,  অথবা ‘বাংলাদেশ মান’ এর সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ কিনা তা যাচাইয়ে অডিট করতে পারবে।’’

হালাল সনদ দেওয়ার জন্য ইনস্টিটিউশনের কর্মকর্তা বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগ ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের নিয়ে হালাল সার্টিফিকেশন কমিটি গঠন করতে পারবে। পাশাপাশি অডিট করার জন্য বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে হালাল অডিট টিম গঠন করতে পারবে।’

‘হালাল সাটিফিকেশনের মেয়াদকাল হবে তিন বছর। মেয়াদ শেষে এটি নবায়নের জন্য আবেদন করা যাবে। কর্তৃপক্ষ হালাল সাটিফিকেশন বাতিল বা স্থগিত করতে পারবে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসটিআইয়ের সার্টিফিকেশন উইংয়ের পরিচালক নূরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পণ্যে হালাল মার্ক সনদ প্রদানের জন্য বিএসটিআই প্রবিধানমালা সংশোধন করেছে। তবে এটি কোনও বাধ্যবাধকতার বিষয় নয়। কোনও প্রতিষ্ঠান চাইলে তার পণ্যের জন্য হালাল সার্টিফিকেশন গ্রহণ করতে পারবেন। এক্ষেত্রে আমাদের ১৩ সদস্যের একটি কমিটি আছে। আরও সংশ্লিষ্ট ৮টি মন্ত্রণালয় রয়েছে। তারা আবেদন যাচাই-বাছাই ও সংশ্লিষ্ট কারখানা পরিদর্শন করে এই সনদ প্রদান করবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এতদিন বিভিন্ন পণ্য বা দ্রব্য অনেকে হালাল উল্লেখ করে সরবরাহ করেছে। এগুলোর কোনও আইনি বৈধতা ছিল না। এখন থেকে হালাল মার্ক দিতে চাইলে অনুমতি নিতে হবে। অনুমতি ছাড়া কেউ পণ্যে হালাল মার্ক ব্যবহার করতে পারবে না।’