ঘণ্টার পর ঘণ্টা এক লাইনে

পান্থপথে টিসিবি’র পণ্য বিক্রি চলে দুপুর থেকেই। রোদের মধ্যে ছোট্ট শিশুকে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন শুক্রাবাদ এলাকায় বসবাসকারী রাবেয়া। কম দামে চিনি, তেল,পেঁয়াজ এবং ডাল নিতে তার অপেক্ষা প্রায় দেড়ঘণ্টা। এত সময় ধরে শিশুটিকে কোলে নিয়েই দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। প্রায় দুই ঘণ্টা পর  হাতে পেলেন পণ্য। শিশুকে কোলে নিয়েই এক এক করে তেল, পেঁয়াজ, চিনি, ডাল সংগ্রহ করেন ট্রাক থেকে।  

বৃহস্পতিবার (১০ মার্চ) দুপুরের পর থেকে লাইন লম্বা হতে থাকে টিসিবি’র ট্রাকের সামনে। আশেপাশের এলাকার মানুষ অবস্থান করছিলেন এই লাইনে। লাইনের মানুষ আগানো নিয়ে, কিংবা সিরিয়াল করা নিয়েও চলে বাকবিতণ্ডা। আবার লাইনের মাঝখান থেকেও কেউ কেউ উত্তেজিত হয়ে বলেন, আগায় না কেন?

ট্রাকের সামনে পণ্য নিতে এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে দাঁড়িয়ে ছিলেন আসমা। তিনি বলেন, ‘দুপুরে আজানের পর এসে দাঁড়াইছি। এক ঘণ্টার ওপর হয়ে গেছে।’ এর আগে কতবার এসেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আজকেই প্রথম।’ এইটুকু বাজার দিয়ে কতদিন চালাতে পারবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখনও বলতে পারি না। প্রয়োজন হলে আবারও দাঁড়াইতে হবে লাইনে।’

ভোজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যে হাঁসফাঁস করছেন অনেকেই। বাজার ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে সরকার ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে পেঁয়াজ, চিনি, ডাল এবং সয়াবিন তেল বিক্রি করছে। চিনি, ডাল, তেল জনপ্রতি  ২ কেজি পেলেও, পেঁয়াজ দেওয়া হচ্ছে পাঁচ কেজি করে। সবমিলিয়ে মূল্য দাঁড়ায় ৬১০ টাকা।  ফলে এসব পণ্যের বাজার মূল্য থেকে বেঁচে যায় ৩৪০ টাকা।

টিসিবি’র ডিলারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এক গাড়িতে থাকা আড়াই টন পণ্য ২০০-২৫০ জন মানুষ কিনতে পারে। তবে সেই তুলনায় লাইনে আরও  বেশি মানুষ অবস্থান করার ফলে অনেকেই পণ্য পেতে বঞ্চিত হন। এক গাড়ি পণ্য বিক্রি করতে ৩-৪ ঘণ্টা সময় চলে যায়।

টিসিবির ট্রাকের বিক্রয় প্রতিনিধিরা জানান, এক গাড়িতে চার জন কাজ করি আমরা।  বস্তা হিসেবে মাল নিয়ে আসি। এগুলো খুলে আলাদা প্যাকেট করতে হয়, জনপ্রতি দিতে হলে। তাতে অনেক সময় চলে যায়। আবার টাকা বুঝে নিয়ে একজন একজন করে পণ্য বুঝিয়ে দিতেও সময় যায়। এ কারণে সময় লাগে বেশি।

ছবি: সাজ্জাদ হোসেন