মিমের স্বপ্ন অধরাই থেকে গেলো

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ থেকে অনার্স শেষ করে দেশের বাইরে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল মাইশা মমতাজ মিমের। চার বছর অনার্সের তিন বছর পেরিয়ে যখন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে তথ্য জোগাড় করছিলেন, সে সময়ই বেপরোয়া কাভার্ডভ্যানের চাপায় ফ্লাইওভারে মৃত্যু হলো তার। মৃত্যু হলো একটি স্বপ্নের।

 

কুড়িল ফ্লাইওভারে ‘দুর্ঘটনায়’ নর্থ সাউথের ছাত্রী নিহত

 

বড় সন্তানকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ বাবা। কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না মেয়ের এভাবে চলে যাওয়া।

শুক্রবার ১ এপ্রিল উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টরের বাসা থেকে ক্লাস করতে স্কুটি চালিয়ে যাচ্ছিলেন মিম। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি খিলক্ষেত ফ্লাইওভার থেকে ৩০০ ফিট সড়কে নামার রাস্তায় বেপরোয়া কাভার্ডভ্যান এসে তাকে চাপা দেয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শুক্রবার সকালে মিমের আরেক বোন মেডিক্যাল কলেজের ভর্তি পরীক্ষা দিতে বের হন। দুই সন্তান বের হলেও এক সন্তান আর ফেরেনি। এমনটা বলে বলে মূর্ছা যাচ্ছিলেন মিমের বাবা মৌচাক আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ নূর মোহাম্মদ মামুন। শোকে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। তাকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাও দেওয়া হয়। পরে মেয়ের মরদেহের সঙ্গে অন্য একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় গাজীপুরে।

মিমের মামা অ্যাডভোকেট একেএম হায়দার রহমান চুন্নু বাংলা ট্রিবিউনকে সকালে বলেন, মিমের বাবার বাড়ি গাজীপুরের মৌচাক এলাকায়। সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। এখন আমরা গাজীপুর যাবো। সেখানেই মিমের দাফন হবে।

মিমের মৃত্যুর খবর এখনও তার মা জানে না বলে জানান চুন্নু। তিনি বলেন, ‘উত্তরার বাসা থেকে উনাকে গাজীপুর নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে উনাকে জানানো হবে। কখন কী ঘটে যায়, সেই শঙ্কায় তাকে মিমের মৃত্যুর খবর জানাইনি এখনও।’

ময়নাতদন্ত সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার কারণে মাথায় আঘাত পাওয়ায় মৃত্যু হয়েছে মিমের।

খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুন্সি সাব্বির আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমরা একটি সিসিটিভি ফুটেজ পেয়েছি। সেটা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ফুটেজে একটি কাভার্ডভ্যান দেখতে পেয়েছি। ওটার চাপায় নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে কিনা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি।