রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও হাজারীবাগ এলাকা থেকে অজ্ঞান পার্টির ১৫ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। চক্রটি ঈদকে সামনে রেখে তৎপর হয়েছিল বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
শনিবার (২৩ এপ্রিল) বিকালে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের রমনা ও ওয়ারী বিভাগ বাংলা ট্রিবিউনকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পৃথক দুটি টিম পৃথক পৃথক অভিযানে তাদের গ্রেফতার করে।
গোয়েন্দা ওয়ারী বিভাগের সংঘবদ্ধ অপরাধ ও গাড়ি চুরি প্রতিরোধ টিমের সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহফুজুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার (২১ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে যাত্রাবাড়ী থানার ধলপুর কমিউনিটি সেন্টারের সামনে থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলো- মো. লিটন ওরফে বুলেট ওরফে রিপন, মো. রাশেদ, মো. ফাহিম, মো. জসীম, মো. কবির ও মো. নাঈম। এসময় তাদের কাছ থেকে ৪০ পিস চেতনানাশক ওষুধ উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতরা সংঘবদ্ধ অজ্ঞান পার্টির সক্রিয় সদস্য। তারা সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, কমলাপুর রেল স্টেশন ও গুলিস্থানসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকার যাত্রীবাহী বাসে যাত্রী বেশে উঠে ‘টার্গেট’ নির্ধারণ করে। পরবর্তী সময়ে অত্যন্ত সুকৌশলে টাগের্টকৃত যাত্রীদের পানি, চা, জুসসহ অন্যান্য তরল জাতীয় খাদ্য দ্রব্যের সাথে কৌশলে চেতনানাশক ওষুধ সেবন করিয়ে সর্বস্ব নিয়ে পালিয়ে যায়।
অপর একটি অভিযানে রাজধানীর হাজারীবাগ থানা এলাকা থেকে অজ্ঞান পার্টির ৯ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা রমনা বিভাগ।
গ্রেফতারকৃতরা হলো- মোহন মিয়া, মো. রুবেল ইসলাম, মো. নুরুল ইসলাম জামান ওরেফে জামাল ভূইয়া, মো. মুকিতুল হাসান রিফাত, মো. রতন আকন্দ, সুমন চন্দ্র পাল, মো. দুলাল মিয়া, মো. বাবু তালুকদার ওরফে কেডি বাবু ও আ. রহিম।
গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে অজ্ঞান করার কাজে ব্যবহৃত ২ প্যাকেট মরিচের গুড়া, ২০ পিস চেতনানাশক ট্যাবলেট, তিনটি গুল, তিনটি জামবাক, একটি স্প্রে ও দুটি পাগলা মলম উদ্ধার করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া গোয়েন্দা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও মাদক নিয়ন্ত্রণ টিমের সহকারী পুলিশ কমিশনার নাজিয়া ইসলাম জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতে হাজারীবাগে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় হাজারীবাগের আরএস পেট্রোল পাম্পের সামনে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টাকালে তাদের গ্রেফতার করা হয়।