নড়াইলে মির্জাপুর ইউনাইটেড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসকে জুতার মালা পরিয়ে হেনস্তার প্রতিবাদে শাহবাগে সমাবেশ করেছে ‘নিপীড়নের বিরুদ্ধে শাহবাগ’ নামে একটি সংগঠন। সোমবার (২৭ জুন) বিকালে শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সংহতি জানিয়ে সমাবেশে ছিল মাইনরিটি রাইটস ফোরাম বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ছাত্র ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ শিক্ষক ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি (বাকবিশিস)।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, অধ্যক্ষ স্বপন কুমারকে নয়, গোটা জাতিকে যেন জুতার মালা পরানো হয়েছে। শিক্ষক লাঞ্ছনা এখন শিক্ষক হত্যায় উপনীত হয়েছে। যে ছেলেমেয়েরা এগুলো করছে, তাদের হাতে বাংলাদেশের ভবিষ্যত। তাই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং এ বিষয়ে সরকারকে নজর দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ও সাবেক চেয়ারম্যান ড. কাবেরি গায়েন বলেন, ‘এমন ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমরা অনেকবার এখানে দাঁড়িয়েছি। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া হৃদয় মণ্ডলও এমন ঘটনার শিকার হয়েছেন। কিন্তু স্বপন কুমার বিশ্বাসকে কোন অপরাধে জুতার মালা পরিয়ে নির্যাতন করা হচ্ছে তার সত্যতা এখনও জানা যায়নি। একেকজন শিক্ষক একেকভাবে নির্যাতন ও হেনস্তার শিকার হচ্ছেন কিন্তু শিক্ষক মহলের ন্যূনতম দায়সারাভাব লক্ষ করা যায়নি।’
সহকারী অধ্যাপক ড. আব্দুর রাজ্জাক খান বলেন, ‘একাত্তরের মধ্য দিয়ে আমরা যে বাংলাদেশ পেয়েছি, সেটা আর বাংলাদেশ নেই। পাকিস্তানের মতো একটি সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। মনে হয়েছে, এ মালা আমাকে পড়ানো হয়েছে। এ ঘটনায় কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ফেডারেশন কোনও বিবৃতি দেয়নি। এতে বোঝা যায়, তারা বিষয়টি পাশ কাটাতে চায়। আমি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা এবং ধিক্কার জানাই। সেই সঙ্গে নড়াইলের ডিসি, এসপি এবং অফিসার ইনচার্জ, থানা এবং যে সব পুলিশ সদস্য সেখানে ছিলেন তাদের বিচার বিভাগীয় তদন্তের সাপেক্ষে শাস্তি পেতে হবে।’
সমাবেশে নিপীড়ন বিরোধী শাহবাগের সংগঠক রবিন আহসান বলেন, ‘কলেজের অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাস পুলিশ ডেকেছেন নিজের নিরাপত্তার জন্য। সেই পুলিশের সামনে তাকে হেনস্তা, অপমানের শিকার হতে হয়েছে। সাভারে শিক্ষককে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। এই হতভাগ্য বাংলাদেশ আমি ৪৯ বছরে দেখিনি।’
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন– বাংলাদেশ ছাত্র ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক কাজল কুমার দাস, বাংলাদেশ শিক্ষক ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব রনজিত দেব, ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি ফয়জুল্লাহ, যুব ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হাবিব আদনান। এতে সভাপতিত্ব করেন নিপীড়নের বিরুদ্ধে শাহবাগ ও গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক আকরামুল হক।