নতুন প্রকাশিত ঢাকা মহানগর বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনায় (ড্যাপ) সুসংবাদ আছে ঢাকার পশ্চিমাঞ্চল তথা মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ, ঢাকা উদ্যান, বসিলা এলাকার মানুষের জন্য। কারণ পূর্ববর্তী ২০১০ সালের পরিকল্পনায় এগুলো বন্যা প্লাবন ভূমি দেখানো হয়েছিল যার কারণে ভবন নির্মাণের নকশা অনুমোদন পেতো না এ এলাকার মানুষ।
নতুন প্রকাশিত ঢাকা মহানগর বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা ২০১৬-৩৫-এ এসব এলাকাকে আবাসিক হিসেব দেখানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক মো. আশরাফুল ইসলাম।
ফলে এখন থেকে ভবন নির্মাণের নকশা অনুমোদন পাবেন এ এলাকার মানুষ। আবাসিক ভবনের পাশাপাশি ছোটখাটো ব্যবসাও পরিচালনার ও অনুমতি থাকবে এ এলাকার বাসিন্দাদের জন্য।
এছাড়াও, যে ভবনগুলো রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতিরেকে নির্মাণ করা হয়েছে কিন্তু ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুসরণ করা হয়েছে তারা নির্দিষ্ট ফি'র দশগুণ জরিমানা দিয়ে অকুপেন্সি সার্টিফিকেট নিতে পারবে।
আশরাফুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, 'আমরা সব বন্যা প্লাবনভূমিকে ভূমিকে আবাসিকের অনুমোদন দেইনি। কিছু কিছু এলাকা যেমন মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধের বাইরের এলাকায় ১৯৮৮ সাল থেকে ভূমি উন্নয়ন শুরু হয়েছে। ওই এলাকায় রাজউক এতদিন পারমিশন দেয়নি। কিন্তু এ এলাকায় ইতোমধ্যে ৭০ ভাগ অংশে ভবন নির্মিত হয়েছে। যেখানে ৭৫ শতাংশ ভবনের উচ্চতা ছয়তলার কম নয়। এ জায়গাকে আমরা যদি বলি এটা বন্যাপ্রবাহ এলাকা তাহলে নিরেট বাস্তবতাকে অস্বীকার করা হবে। আরও অপরিকল্পিত ভবনকে উৎসাহিত করা হবে।'
তিনি আরও বলেন, 'ওই এলাকার ৭০ ভাগ ভবন ভাঙ্গা যৌক্তিক কিনা, সম্ভব কিনা এবং এটা করতে আমাদের কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন জনবল ও যান-যন্ত্রপাতির সক্ষমতা আছে কিনা, আমাদের মতো অর্থনীতিতে এটা সমর্থন করে কিনা— এসব ভেবে দেখতে হবে। তার চেয়ে আমরা যদি তাদেরকে বলি তোমরা কিছু পার্ক রাখ, খালগুলোকে সংস্কার করো, রাস্তাগুলোকে রক্ষণাবেক্ষণ করো— তাহলেই একটা পরিকল্পনার আওতায় আসবে।'
তিনি বলেন, ' এটাকে আবাসিকের অনুমোদন দেওয়া হলেও মুদি দোকান, লন্ড্রি, স্টেশনারি শপ করা যাবে কিন্তু বড় শপিং সেন্টার করা যাবে না।'
ইতোমধ্যে যারা ভবন নির্মাণ করেছেন তাদের অকুপেন্সি সার্টিফিকেট নিতে হলে কী করতে হবে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, 'ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী কারও ভবনের সোটব্যাক ঠিক থাকে, রাস্তার প্রশস্ততা অনুযায়ী ভবনের এফএআর ঠিক থাকে তাহলে তিনি দশগুণ জরিমানা দিয়ে বৈধতার সুযোগ পাবেন— যা আইনেই আছে।'
আরও পড়ুন: