আলোকচিত্রী দিনু আলমের স্মৃতিচারণ

নূর হোসেনকে দেখেই মনে হচ্ছিল জ্বলন্ত পোস্টার হেঁটে যাচ্ছে

১০ নভেম্বর ১৯৮৭ সালের দিনটি বিপ্লবীদের পক্ষে ছিল বলে মন্তব্য করেছেন শহীদ নূর হোসেনের বিখ্যাত ছবির চিত্রগ্রাহক দিনু আলম। তিনি বলেন, ১০ নভেম্বরের আগের দিন সকালে আলোচনা হচ্ছিল—ঢাকা অবরোধ হবে, সেক্রেটারিয়াল ঘেরাও কর্মসূচি হবে। সবার মধ্যেই একটা অন্যরকম উত্তেজনা ছিল এরশাদকে নামাতে হবে। বিক্ষোভের দিন সকাল সকাল চলে গেলাম। রৌদ্রোজ্জ্বল সকাল ছিল। একটা ভালো দিন বলা চলে—বিক্ষোভকারীদের জন্য, সরকারবিরোধীদের জন্য। একটা বিপ্লবী আবহে সবাই মিছিল নিয়ে আসছিল। আমার একটা ছবিতে তা স্পষ্ট।

বুধবার (৯ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে প্রখ্যাত আলোকচিত্রী দিনু আলম বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় এসব কথা বলেন। এদিন তিনি প্রেস ক্লাবে ‘দিনু আলমের ফটোগ্রাফিক ডকুমেন্ট ১০ নভেম্বর ১৯৯৭’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন।

নূর হোসেনের ছবি প্রসঙ্গে দিনু আলম বলেন, আমি যখন নূরের ছবিটি তুলি, সময়টা ছিল ঠিক জোহরের আগে। অনেককে জোহরের নামাজের জন্য যেতে দেখি। আমি নূর হোসেনের ছবি তোলার ঠিক মিনিট দশেক পর গোলাগুলির শব্দ পাই। তখনই নূর হোসেনসহ আরও দুই জন গুলিবিদ্ধ হন।20221109_115019

ছবি তোলার আগে নূর হোসেনের সঙ্গে কোনও কথা হয়েছিল কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, "নূর হোসেনের তিনটি পোর্ট্রেট ছবি তুলেছিলাম—জিরো পয়েন্ট ও জিপিওর মাঝামাঝি স্থানে। তাকে দেখে বললাম, ভাই দাঁড়ান, আপনার ছবি তুলি। নূর হোসেনকে দেখেই মনে হচ্ছিল জ্বলন্ত পোস্টার হেঁটে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত যতটুকু মনে পড়ে—তিনি এই ছবির মতোই হাত উঁচিয়ে বললো- 'দাঁড়াইয়া গেলাম ভাই, লইয়া লন'। ঢাকাইয়া ভাষায় এরকম শব্দই আমার কানে ভাসে। তার আরেকটা ছবি তুলেছি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়ির সামনে মিছিলের সঙ্গে যখন আসছিলেন।"নূর হোসেনের সামনে থেকে তোলা দিনু আলমের ছবি

তিনি আরও বলেন, 'শুধু আমার ছবি নয়। নূর হোসেনের সামনে থেকে আমার তোলা 'স্বৈরাচার নিপাত যাক' এবং পাভেল ভাইয়ের নূর হোসেনের পিছনের ছবি 'গণতন্ত্র মুক্ত পাক' দুই ছবি মিলেই আমাদের জন্য একজন নূর হোসেন।'

আরও পড়ুন:

নূর হোসেনের ছবি স্বত্বাধিকার মুক্ত করলেন আলোকচিত্রী দিনু আলম