কেনিয়ার নাইরোবিতে অবস্থিত লেভেল-৩ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় মৃত্যুবরণকারী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী সার্জেন্ট মো. মনজুর রহমানের নামাজে জানাজা বৃহস্পতিবার (১০ নভেম্বর) ঢাকা সেনানিবাসে আর্মি এভিয়েশন হ্যাঙ্গারে অনুষ্ঠিত হয়েছে। জানাজায় সেনাপ্রধানের পক্ষে সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল আতাউল হাকিম সারওয়ার হাসানসহ ঢাকা সেনানিবাসের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তা ও সব পদবির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় সিজিএস মৃত্যুবরণকারী শান্তিরক্ষীর সম্মানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে ওই সেনাসদস্যদের মরদেহ নিজ বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফলে পাঠানো হয় এবং সেখানে সামরিক মর্যাদায় দাফনকার্য সম্পন্ন হয়।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর আইএসপিআর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সার্জেন্ট মো. মনজুর রহমান সুদান ও দক্ষিণ সুদানের মধ্যবর্তী বিশেষ প্রশাসিত এলাকা আবেইতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন ইউনিসফা, ব্যানব্যাট-১ এ কর্মরত ছিলেন। তিনি গত ২৭ অক্টোবর পেরিয়ানাল অ্যাবসসেস রোগের কারণে লেভেল-১ হাসপাতাল, কাদুগলিতে ভর্তি হন। পরবর্তী সময়ে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ১ নভেম্বর লেভেল-৩ হাসপাতাল, নাইরোবি, কেনিয়াতে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন ৩ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) স্থানীয় সময় দুপুরে পেরিয়ানাল ফোঁড়া থেকে সৃষ্ট মাল্টি-অর্গান ডিসফাংশন ও সেপটিক শকজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন।
প্রয়াত সেনাসদস্যের মরদেহ বৃহস্পতিবার (১০ নভেম্বর) বিকাল ৫টা ২০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর এসে পৌঁছায়।
এ পর্যন্ত জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে ১৩০ জন বাংলাদেশি সেনাসদস্য প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন।
জীবনের ঝুঁকি নিয়েও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শান্তিরক্ষীরা আফ্রিকার ৯টি দেশে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রেখে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রেখে চলেছে।