বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে উদযাপন করা হয়েছে বাংলা একাডেমির ৬৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। বাঙালি জাতিসত্তা ও বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষের প্রতীক এ প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ছিল গত ৩ ডিসেম্বর। বুধবার (৭ ডিসেম্বর) বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করা হয়।
বুধবার বেলা সাড়ে ৩টায় একাডেমির ভাষাশহীদ মুক্তমঞ্চে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, বক্তৃতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়াজন করা হয়। অনুষ্ঠান স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলা একাডমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন সংস্কৃতিপ্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব অসীম কুমার দে। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন।
‘বাংলা একাডেমির সংক্ষিপ্ত ইতিবৃত্ত ও প্রত্যাশা’ শীর্ষক প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বক্তৃতা প্রদান করেন কথাসাহিত্যিক, গবেষক ও অনুবাদক সুব্রত বড়ুয়া।
কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা বলেন, ‘বাংলা একাডমি সাম্প্রতিক সময়ে ঐতিহ্যের অঙ্গীকার ধারন করে আধুনিকতার পথে নবযাত্রা শুরু করেছে। অবকাঠামাগত উন্নয়নের পাশাপাশি গবেষণাপত্রে একাডেমি যুগান্তকারী কিছু কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে চলছে। বাংলা একাডেমি একটি স্বপ্নের নাম। সবার সহযাগিতায় আমরা নিশ্চিতভাবে বাংলা একাডেমিকে বাঙালি জাতি ও বাংলাদেশের স্বপ্নকল্পনার প্রত্যাশিত বাস্তবতায় দেখবো।’
কে এম খালিদ বলেন, ‘বাংলা একাডেমি প্রকৃতঅর্থেই বাঙালি জাতিসত্তা ও বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষের প্রতীক প্রতিষ্ঠানে রূপ নিয়েছে। ১৯৫৫ সালের ৩ ডিসেম্বর থেকে আজ পর্যন্ত বাংলা একাডেমি বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও বাঙালি সংস্কৃতির লালন ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলছে। বাংলা একাডেমি আয়াজিত অমর একুশে বইমেলা পৃথিবীর দীর্ঘ সময়ব্যাপী বইমেলায় পরিণত হয়েছে, যা আমাদের সবার জন্য গর্ব ও অহংকারের বিষয়।’
কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন বলেন, ‘প্রায় সাত দশকের পরিক্রমায় বাংলা একাডেমি আজ এক আলোক-বৃক্ষের নাম। আমরা বাঙালির এই প্রাণের প্রতিষ্ঠানকে জাতির মনন-আকাঙ্ক্ষার উপযুক্ত করে গড়ে তোলার জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ততোদিনই বাংলা একাডেমি তার প্রকৃত মহিমায় উজ্জ্বল থাকবে।’