কিশোরগঞ্জ জেলার বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তির নাম ভাঙিয়ে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন এলাকায় টিকিট কালোবাজারি করতো চক্রটি। পাঁচ বছর ধরে চক্রটি এই কাজ করে আসছিল। ট্রেন ছাড়ার তিন-চার ঘণ্টা আগে থেকে তারা অধিক মূল্যে টিকিট বিক্রির তৎপরতা শুরু করে। ট্রেন ছাড়ার সময় যত ঘনিয়ে আসে, তাদের মজুতকৃত টিকিটের দাম তত বাড়তে থাকে।
এমনই একটি টিকিট কালোবাজারি চক্রের মূল হোতাসহ ছয় জনকে গ্রেফতারের পর সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানায় র্যাব।
শুক্রবার (২৩ ডিসেম্বর) রাজধানীর টিকাটুলি র্যাব-৩-এর প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ২২ ডিসেম্বর বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত র্যাব-৩-এর দুটি পৃথক অভিযানে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন এলাকা থেকে ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি চক্রের মূল হোতাসহ ছয় জনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলো মো. আব্দুল হাকিম (৩৭) ও তার সহযোগী মো. জয়নাল আবেদীন (৫৯), মো. শামীম ওরফে সম্রাট (২৭), মো. আব্দুল জলিল (১৯), মো. খোকন মিয়া (৫৫), মো. উজ্জল ভূইয়া (৩৩)। এ সময় তাদের কাছ থেকে ২১টি কালোবাজারি টিকিট, পাঁচটি মোবাইল ফোন, তিনটি সিমকার্ড, একটি আইডিকার্ড ও টিকিট বিক্রির ৯ হাজার ৮১৮ টাকা উদ্ধার করা হয়।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, রাজধানীর কমলাপুর ও বিমানবন্দর রেলস্টেশনসহ সারা দেশের বিভিন্ন রেলস্টেশনে অধিক মুনাফার আশায় ট্রেনের টিকিট কালোবাজারির মাধ্যমে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে তৎপরতা চালিয়ে আসছে। কমলাপুর রেলস্টেশনে চক্রটির মূল হোতা মো. আব্দুল হাকিম ও অন্য সদস্যরা মিলে রেলস্টেশনে লাইনে দাঁড়িয়ে একেকটি এনআইডি ব্যবহার করে টিকিট সংগ্রহ করে। এ ছাড়া অনলাইনে বিভিন্ন পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও মুঠোফোন নম্বর ব্যবহার করেও টিকিট সংগ্রহ করে তারা।এমনকি অনেক সময় তারা রিকশাওয়ালা, কুলি, দিনমজুরকে অল্প টাকার বিনিময়ে লাইনে দাঁড় করিয়ে টিকিট সংগ্রহ করে।
তিনি বলেন, আব্দুল হাকিমের নেতৃত্বে ট্রেন ছাড়ার তিন-চার ঘণ্টা আগে থেকে তারা অধিক মূল্যে টিকিট বিক্রির তৎপরতা শুরু করে। ট্রেন ছাড়ার সময় যত ঘনাতে, থাকে তাদের মজুতকৃত টিকিটের দাম তত বাড়তে থাকে। তারা সাধারণত দিগুণ মূল্যে টিকিট বিক্রি করে থাকে। সুযোগ ও সময় বুঝে অনেক ক্ষেত্রে তারা টিকিটের দাম আরও বাড়িয়ে দেয়।
এই চক্রটি মূলত তূর্ণা নিশিথা, পঞ্চগড় এক্সপ্রেস, সুন্দরবন এক্সপ্রেস, তিস্তা এক্সপ্রেস, মহানগর প্রভাতী, চট্টলা এক্সপ্রেস, জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস, ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস এবং পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি করে থাকে। এই চক্রটির আরও সদস্য ইউনিট রয়েছে। প্রতিটি ইউনিটে ৫ থেকে ৭ জন করে সক্রিয় সদস্য রয়েছে, যারা তাদের টার্গেট করা ট্রেনসগুলোর টিকিট কালোবাজারি করে সাধারণ যাত্রীদের হয়রানি করে মুনাফা অর্জন করে।
জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার মূল হোতা হাকিম র্যাবের কাছে স্বীকার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রক্রিয়াধীন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ।