‘নদী, পানি ও পরিবেশ রক্ষায় আইন আছে, প্রয়োগ নেই'

জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মুজিবুর রহমান বলেছেন, নদী, পানি ও পরিবেশ রক্ষায় আইন আছে কিন্তু এর প্রয়োগ করার মানুষ নেই। মানুষ থাকলেও তাদের সাহস নেই। প্রত্যেকটা বিভাগের জবাবদিহির জায়গা নিশ্চিত করতে হবে, তাহলে পরিবেশ নিয়ে কাজ করে পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।

রবিবার (২৯ জানুয়ারি) ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ কনসোর্টিয়ামের আয়োজনে ঢাকা শহরের পানি, বায়ু ও শব্দদূষণ বিষয়ক পরিবীক্ষণ কার্যক্রমের অংশ হিসাবে তৃতীয় ডাটা ভেলিডেশন কর্মশালার প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের সমন্বয়ক শরীফ জামিলের সভাপতিত্বে ও সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত কর্মশালায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মোহম্মদ নজরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানের শুরুতেই শরীফ জামিল প্রকল্পের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেন এবং স্টেট অব ঢাকা এনভায়রনমেন্ট রিপোর্ট নিয়ে বক্তব্য দেন।

কর্মশালায় ওই গবেষণার তথ্য উপাত্ত উপস্থাপন করেন স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আহম্মদ কামরুজ্জামান মজুমদার এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক মো. রুরুল ইসলাম। প্রতিবেদনের ওপর বিশেষজ্ঞ মতামত দেন জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের পরিবেশ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ মুনির হোসেন চৌধুরী এবং ঢাকা ওয়াসার মাইরোওলোজি ও ল্যাব প্রধান ড. মো.আলমগীর হোসেন।

ড. মুজিবুর রহমান বলেন, এই অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত তথ্য ও উপাত্ত দেশের সকল নদীর চিত্র তুলে ধরে না, তবে এটিকে ঢাকার নদীর চিত্র তুলে ধরে এমন প্রতিনিধিত্বকারী তথ্য হিসাবে বিবেচনা করা যায়, যারা এই কাজটি করেছেন তারা প্রশংসার দাবি রাখেন। তবে দখলের কারণে দূষণের তীব্রতা কতখানি বৃদ্ধি পেয়েছে তা এই তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণে পাওয়া যায়নি, তাই তিনি নদী দখল নিয়ে তথ্য সংগ্রহের পরামর্শ দেন।

ড. মোহম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, ঢাকার চারদিকে যে ৪টি নদী আছে সব নদী দূষণ ও দখলের কারণে মৃত অথচ আদালত নদীকে জীবন্ত সত্তা ঘোষণা করেছে। আমাদের দেশের নদীগুলোর দূষণ কমাতে হলে পলিউশন পে প্রিন্সিপাল পদ্ধতি প্রচলন করতে হবে। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কাউন্টারপার্ট ইন্টারন্যাশনালের চিফ অব পার্টি মাইনুদ্দিন আহমেদ।