ভারত থেকে অবৈধভাবে অস্ত্র এনে ভুয়া লাইসেন্স তৈরি করতো একটি চক্র। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তাকর্মীর চাকরি দেওয়ার প্রলোভনে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে সেসব আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রি করা হতো। এছাড়া সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কাছেও অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রি করতো চক্রের সদস্যরা। রবিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ওই চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করে র্যাব সদর দফতরের গোয়েন্দা শাখা এবং র্যাব-২-এর একটি যৌথ দল।
সোমবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর কাওরান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাবের মুখপাত্র কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন– পলাশ শেখ, মনোয়ার হোসেন, রশিদুল ইসলাম, নাজীম মোল্লা, মারুফ হোসেন ও নাইমুল ইসলাম। একটি বিদেশি পিস্তল, দুইটি ওয়ান শুটার গান, সাতটি একনালা বন্দুক, দুইটি পিস্তলের ম্যাগাজিন, আট রাউন্ড পিস্তলের গুলি, দুই রাউন্ড ওয়ান শুটারের গুলি, ৬৭ রাউন্ড একনলা বন্দুকের গুলি, ৪০ রাউন্ড ০ দশমিক ২২ বোর রাইফেলের গুলি, ১১টি জাল লাইসেন্স এবং বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তার নামে ১৯টি সিল ও অন্যান্য সামগ্রী তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, চক্রটি দীর্ঘ দিন ধরে অবৈধ অস্ত্র কেনাবেচা এবং জাল লাইসেন্স তৈরি করে আসছিল। তারা অবৈধভাবে ভারত থেকে রিভলবার, পিস্তল এবং এক নলা বন্দুকসহ বিভিন্ন ধরণের আগ্নেয়াস্ত্র আনতো। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলকায় সেগুলো বিক্রি করতো। তারা বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা কর্মীর চাকরি দিতে আগ্রহীদের আকৃষ্ট করে জন প্রতি ২-৩ লাখ টাকা পর্যন্ত নিতো। তাদের থেকে অবৈধ অস্ত্র ও ভুয়া লাইসেন্স নিয়ে কয়েক জন বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা কর্মী হিসাবে চাকরি করছে। এছাড়াও চক্রটি বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কাছে চড়া দামে অবৈধ অস্ত্র বিক্রি করে আসছিল। এ পর্যন্ত ২০-২৫ জনের কাছে অস্ত্র বিক্রি করেছে তারা।
খন্দকার আল মঈন বলেন, ২০০৪ সালে স্থানীয় একটি বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করে পলাশ। ২০১৩ সালে ঢাকায় আসে। একটি প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা কর্মী হিসেবে চাকরি শুরু করে। চাকরিরত অবস্থায় ২০১৫ সালে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ভুয়া লাইসেন্স করা বন্দুক কিনে একটি বেসরকারি ব্যাংকে বেশি বেতনে নিরাপত্তা কর্মীর চাকরি শুরু করে। পরে সে নিজেই অবৈধ পথে অস্ত্র চোরাচালান ও বিক্রি শুরু করে। এভাবে সে ওই চক্রটি গড়ে তোলে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে র্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, এই চক্রের কাছ থেকে যারা অস্ত্র কিনেছে তাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।