রাজধানীর উত্তরায় এক ফার্নিচার ব্যবসায়ীর সঙ্গে প্রতারণা করে ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে চক্রের এক সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গত ২৪ মে তাকে গ্রেফতার করে পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর)। রিমান্ড শেষে শনিবার (২৭ মে) আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
গ্রেফতার ব্যক্তি হলো প্রতারক চক্রের অন্যতম সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন জামান (৫৫)।
রবিবার (২৮ মে) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পিবিআই সদর দফতরের মিডিয়া কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ।
তিনি জানান, ফার্নিচার ব্যবসায়ী সাহাদাত হোসেন রিলায়েবল ফার্নিচার নামে অনলাইনে ব্যবসায় করেন। ২০২২ সালের ২২ জুন এক ব্যক্তি রিসোর্টের জন্য ফার্নিচার কেনার কথা বলে উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টর এলাকায় ডেকে নেন। সেখানে যাওয়ার পর প্রতারক চক্রের সদস্য ও গ্রেফতার মোয়াজ্জেমসহ চক্রের কয়েক জনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়।
চক্রের সদস্যরা রিসোর্টের ১৩০টি রুমের ফানির্চার কেনার জন্য ওই ব্যবসায়ীর সঙ্গে ১ কোটি ৭০ লাখ টাকার চুক্তি করে। পরে সাহাদাতকে কেমিক্যালের (তারফিন) ব্যবসার পার্টনার হওয়ার লোভনীয় প্রস্তাব দেয়। প্রস্তাবে রাজি হয়ে বিভিন্নভাবে ২৫ লাখ টাকা দেন ভুক্তভোগী সাহাদাত। কিন্তু কার্যকলাপ দেখে সন্দেহ হওয়ায় ব্যবসায়ী টাকা চাইলে অফিস ছেড়ে পালিয়ে যায় চক্রের সদস্যরা।
টাকা উদ্ধার করতে না পেরে এ বিষয়ে আইনি সহায়তা চেয়ে র্যাব-১ এ একটি অভিযোগ করলে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানা থেকে চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
মামলার পূর্ববর্তী তদন্তকারী কর্মকর্তা পলাতক আসামি মোয়াজ্জেম হোসেন জামান ও মাসুদ (৫১) নামের দুজনের পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করতে না পারায় আদালতে তাদের এই মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। বাদীর নারাজির আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন।
মামলাটি পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর) তদন্তের দুই দিনের মধ্যে মোয়াজ্জেম হোসেন জামানকে মিরপুর থেকে গ্রেফতার করে।
জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক দিনের পুলিশ রিমান্ডে আনা হয়। রিমান্ডে পলাতক আসামি মাসুদ সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানান পিবিআই কর্মকর্তা আবু ইউসুফ।