২০১২ সালের ডিসেম্বরে রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে রিপন নাথ ঘোষ নামের শীর্ষ এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সেই অভিযানে ছিলেন পুলিশ কনস্টেবল বাদল মিয়া। গ্রেফতারকৃত রিপন দুই মাস জেল খেটে বের হয়ে পরিকল্পিতভাবে খুন করে কনস্টেবল বাদল মিয়াকে। এ হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় মাথায় নিয়ে দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে ছিলেন রিপন। অবশেষে বৃহস্পতিবার (১৫ জুন) রাতে র্যাব-১০-এর একটি আভিযানিক দল টাঙ্গাইলের মির্জাপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করেছে। এ সময় তার কাছ থেকে মাদকসহ বিভিন্ন নামে নিবন্ধনকৃত ৯টি মোবাইল সিম উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ জুন) রাজধানীর কাওরান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।
তিনি বলেন, রিপনকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে ২০১২ সালে ৯ নভেম্বর মতিঝিলের এজিবি কলোনি এলাকায় একটি বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় রিপনের অন্যতম সহযোগী তার খালাতো ভাই গোপাল চন্দ্র আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়। এর কিছু দিন পর একটি মাদকবিরোধী অভিযানে রিপন নাথ ও তার এক সহযোগীকে মাদকসহ গ্রেফতার করা হয়। ওই আভিযানিক দলের সদস্য ছিলেন কনস্টেবল বাদল। সে দুই মাস কারাভোগ করে জামিনে বের হয়ে আসে রিপন। জানতে পারে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়া পুলিশ কনস্টেবল বাদল মতিঝিল এলাকায় বসবাস করছে। বিভিন্ন সময় তাদের গ্রেফতারের পেছনে বাদলের হাত রয়েছে বলে সন্দেহ করে রিপন। নির্বিঘ্নে মাদক ব্যবসা পরিচালনার জন্য রিপন তার সহযোগীদের নিয়ে বাদলকে হত্যার পরিকল্পনা করে।
র্যাব জানিয়েছে, রিপন মতিঝিল এলাকার চিহ্নিত মাদক চোরাকারবারি এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত ছিল। তার বিরুদ্ধে তিন থেকে চারটি মামলা আছে। সে কনস্টেবল বাদল হত্যাকাণ্ডে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হলেও মামলার বিচারকার্য চলমান অবস্থায় জামিনে বের হয়ে টাঙ্গাইলে আত্মগোপনে চলে যায়। আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় সে দিনের বেলায় টাঙ্গাইল-রংপুর রুটে বিভিন্ন বাসের হেলপারি ও মাদক ব্যবসা পরিচালনা করতে থাকে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত এ মামলায় ৩ জন গ্রেফতার হয়ে জেলে আছে।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মতিঝিল টিঅ্যান্ডটি কলোনি এলাকা থেকে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমসহ অজ্ঞাত এক যুবককে উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। পরে তার পরিচয় জানা যায়। মৃত যুবক বাংলাদেশ পুলিশের কনস্টেবল বাদল মিয়া। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মতিঝিল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। মামলাটির তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ৫ এপ্রিল রিপনকে প্রধান অভিযুক্ত করে মোট ৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। বিচারিক কার্যক্রম শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত পুলিশ কনস্টেবল বাদল মিয়াকে হত্যার অভিযোগে রিপন নাথ ঘোষসহ মোট ৫ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ প্রদান করেন।