গুজব সব সময়ে ছিল। সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে সেটি আরও বাড়ছে। রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত প্রপাগান্ডা বেশি হচ্ছে বাংলাদেশে। এই প্রপাগান্ডা থেকে গুজবের উৎপত্তি। আবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করেও নতুন ভিডিও গুজব আসার আশঙ্কা আছে। তাই সবকিছু মিলিয়ে বাংলাদেশ নির্বাচনি গুজব মোকাবিলায় প্রস্তুত না বলে মনে করেন আলোচকরা।
দেশের শীর্ষস্থানীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউন ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের (ইউল্যাব) আয়োজনে ‘নির্বাচনি গুজব মোকাবিলায় কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশ?’ শীর্ষক বৈঠকিতে এসব মত দেন আলোচকরা। সোমবার (১৭ জুলাই) বিকালে শুরু হয় নিয়মিত এই আয়োজন।
বৈঠকিতে অংশ নিয়েছেন, ইউল্যাবের অধ্যাপক ও ফ্যাক্টওয়াচ সম্পাদক ড. সুমন রহমান, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসি সম্পাদক জায়েদুল আহসান পিন্টু, ব্লগার ও অ্যাকটিভিস্ট আরিফ জেবতিক এবং সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা।
জায়েদুল আহসান পিন্টু বলেছেন, বাংলাদেশে গুজব সৃষ্টি হচ্ছে নানা কারণে, রাজনৈতিক কারণ তো থাকেই। আবার ব্যক্তিগত কারণেও গুজব ছড়ায়। বাংলাদেশ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গুজব বেশি প্রচার পাচ্ছে, গুজবের হাটবাজার চলছে বলা যায়, উন্নত বিশ্বে টুইটারে এটা বেশি ছড়ায়, দক্ষিণ এশিয়ায় ফেসবুকে এসব বেশি ছড়াচ্ছে। বাংলাদেশের মানুষ যেকোনও ইস্যুকে সিরিয়াসলি নেয় না। হাল্কা করে নেওয়ার যে ট্রেন্ড সেটার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আমাদের একধরনের মানসিকতা যেটা দল বা গোষ্ঠী দ্বারা এতটাই প্রভাবিত যে আমাদের নিজস্ব সত্ত্বাকে ভুলে যাই। যার ফলে মিথ্যা বা গুজব অথবা অর্ধসত্য, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা যেটাই হোক স্বার্থ রক্ষার জন্য আমরা প্রচার করি। অর্থাৎ একজন শিক্ষিত মানুষ জেনেশুনেও গুজব শেয়ার করছে। যেটা সবচেয়ে ভয়ঙ্কর।
আরিফ জেবতিক বলেন, কয়েক কোটি মানুষ ফেসবুক ব্যবহার করে। সুতরাং তাদের কাছে এক্সেস আছে, ইন্টারনেট আছে। রাজনৈতিক দলগুলো এখন ভিন্নভাবে— বিশেষ করে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত অ্যাকটিভিস্ট যারা আছেন তারা চেষ্টা করছেন নিজ দল এবং মতের দিকে নিয়ে যেতে। এটার উৎপত্তি খুব বেশিদিন আগের না, ৫-৭ বছর আগে গুজবগুলো ওইভাবে শুরু হয়েছে।
তানভীর হাসান জোহা বলেছেন, ভিডিও গুজব আসবে, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করে ভিডিও তৈরির মাধ্যমে অসত্য স্থাপন করা একটা নতুন ধরনের গুজব। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা কতটুকু সামর্থ রাখি। ইতোমধ্যে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করেছে, আমাদের কিছু নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটের কন্টেন্ট নিজস্ব নেটওয়ার্কের মাধ্যমে হয়তো বন্ধ করতে সমর্থ হচ্ছি। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে অ্যাপ্লিকেশন বেজড কোনও কিছুই বন্ধ করতে আমরা সমর্থ নই।
ড. সুমন রহমান বলেছেন, সবকিছু মিলিয়ে আমরা একটি প্রস্তর যুগে চলে যাচ্ছি। ব্লগে একসময় সত্য-মিথ্যার লড়াই হতো, এভিডেন্স বেজড লড়াই হতো। এখন আর সেটা নেই। আর আমাদের ফ্যাক্টওয়াচ সাইট যে মানুষ পড়বে সেরকম নয়, সেই মানুষও কম। নির্বাচনি গুজব মোকাবিলায় কতটুকু প্রস্তুত বাংলাদেশ– এই প্রশ্নে আমার উত্তর হচ্ছে একেবারেই তৈরি না এবং তৈরি হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নাই।
প্রভাষ আমিনের সঞ্চালনায় বৈঠকিটি সরাসরি সম্প্রচার করেছে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন নিউজ। পাশাপাশি বাংলা ট্রিবিউনের ফেসবুক, ইউটিউব ও হোমপেজে লাইভ দেখা গেছে এ আয়োজন।