ফল কেনার জন্য প্রতিদিনের মতো গত ১৪ জুলাই ভোরে মাহবুব আলম নামে একজনের অটোরিশায় গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকার উদ্দেশে রওনা দেন ব্যবসায়ী মোমেন শেখ। জেলার হাড়িনাল হানকাটা ব্রিজের ওপর পৌঁছালে অজ্ঞাত পিকআপে পাঁচ থেকে ছয় জন ছিনতাইকারী অটোরিকশার গতিরোধ করে। মোমেন শেখের কাছে থাকা ফল কেনার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে তারা। বাধা দেওয়ায় ছিনতাইকারীদের সঙ্গে তার ধস্তাধস্তি হয়। এক পর্যায়ে তার বুকে লোহার রড দিয়ে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে ছিনতাইকারীরা। পরে মোবাইল ফোন নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। রবিবার (২৩ জুলাই) রাজধানীর কাওরান বাজার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব-১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মোশতাক আহমেদ।
এর আগে, শনিবার (২২ জুলাই) রাতে রাজধানীর দক্ষিণখান ও গাজীপুরের পূবাইল থেকে ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলো– আরজু মিয়া (৩৪), মো. সোহান (১৮), নবী হোসেন (২৯), মো. রাজিব মিয়া (২১) ও মো. শাকিল আহম্মেদ (১৮)। আসামিদের কাছ থেকে ছিনতাইকাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপ, দুইটি লোহার রড, একটি সুচালো লোহার কঞ্চি, একটি লাঠি, আসামিদের ছয়টি মোবাইল ফোন এবং ভুক্তভোগীর একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
মো. মোশতাক আহমেদ বলেন, ‘ওই ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্ত্রী সেলিনা আক্তার বাদী হয়ে গাজীপুর সদর থানায় অজ্ঞাত তিন থেকে থেকে চার জনের বিরুদ্ধে ছিনতাইসহ হত্যা মামলা করেন। এরপর ছায়া তদন্ত শুরু করে র্যাব-১ এর আভিযানিক দল। আসামিদের গ্রেফতারের জন্য গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে র্যাব। এরই ধারাবাহিকতায় তাদের গ্রেফতার করা হয়। র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা হত্যার কথা স্বীকার করে ঘটনার বর্ণনা দিয়েছে।’
জিজ্ঞাসাবাদে বরাত দিয়ে র্যাব কর্মকর্তা জানান, তারা পেশাদার ছিনতাইকারী দলের সক্রিয় সদস্য। বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাই করতো। হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা আরজু মিয়ার ভাষ্যমতে, আগের মতোই ছিনতাইয়ের উদ্দেশে ১৪ জুলাই ভোরে বাসা থেকে বের হয়ে নরুন বাজার এলাকায় অবস্থান করে তারা। মোমেন শেখের অটোরিকশা দেখে ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করে।
তিনি বলেন, ‘হানকাটা ব্রিজের ওপর পৌঁছালে ছিনতাইকারীরা অটোরিকশাটির গতিরোধ করে। চালক মাহাবুব আলমকে টেনেহিঁচড়ে রাস্তার পাশে দাঁড় করে বুকে চাকু ধরে ভয় দেখাতে থাকে। ছিনতাইয়ে বাধা দিলে সুচালো লোহার রড দিয়ে মোমেন শেখের হাত, পেটে ও বুকে আঘাত করে আরজু মিয়া। এক পর্যায়ে রড বুকে ঢুকিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। পরে অপর আসামি মো. সোহান তার সঙ্গে থাকা আরেকটি রড দিয়ে আঘাত করে। মৃত্যু নিশ্চিত হলে মোবাইল ফোন নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় তারা। পরে অটোচালক মাহাবুব আলম গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’
র্যাব কর্মকর্তা বলেন, ‘আসামি আরজু মিয়ার নামে একটি এবং নবী হোসেনের নামে চারটি ডাকাতি ও চুরির মামলা রয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’