শ্বাসরোধে প্রেমিকাকে হত্যা: প্রেমিকের দোষ স্বীকার

পুরান ঢাকার সূত্রাপুরে আফসানা আক্তার শিপা (২১) নামে এক কলেজছাত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার আসামি সৈকত সরকার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

রবিবার (২৩ জুলাই) তাকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর তিনি আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হন। পরে তা রেকর্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সূত্রাপুর থানার উপ-পরিদর্শক ফিরোজ আলী। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আহমেদ তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

আদালতে সূত্রাপুর থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা রনপ কুমার বিষয়টি জানিয়েছেন।

পুলিশ জানায়, নিহত শিপা শেখ বোরহানউদ্দিন পোস্ট গ্রাজুয়েট কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। সৈকত উদয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজে এইচএসসি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। দুজন দুই ধর্মের, বিয়ে করতে পারবে না, পরিবারও মেনে নেবে না। এসব বিষয় নিয়ে শনিবার (২২ জুলাই) দুপুরে শিপা ও সৈকতের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে শিপার গলা টিপে অচেতন করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে সৈকত। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে। তারা শিপাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় শিপার বাবা মো. ফজলুর রহমান বাদী হয়ে সূত্রাপুর থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলার এজাহারে মো. ফজলুর রহমান বলেন, শনিবার বিকালে পুলিশের মাধ্যমে খবর পাই সূত্রাপুর থানার ২৩, ২৩/২ সিংটোলা প্রতাপ দাস লেনে সৈকতের বাসায় শিপার মৃতদেহ পড়ে আছে। পরে আমিসহ পরিবারের কয়েকজন আসামির ঘরে খাটের ওপর শিফার মৃতদেহ দেখতে পাই। পুলিশও সেখানে ছিল।  

এজাহারে আরও বলা হয়, আসামির সঙ্গে আমার মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু ধর্মীয় ভিন্নতা থাকায় আমরা সে সম্পর্ক মেনে নেইনি। সৈকত আমার মেয়েকে প্ররোচিত করে বিভিন্ন সময় তার সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় দেখা করতো। এ বিষয়ে আমার মেয়েকে বিভিন্নভাবে সতর্ক করতাম। ঘটনার দিন আমার মেয়ে কোচিং করার জন্য লক্ষ্মীবাজারের উদ্দেশে বের হয়। সৈকত তাকে প্ররোচিত করে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী নিজের বাসায় নিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে।