বিনোদন মাধ্যম বিষয়ক শ্বেতপত্র প্রকাশ করেছে ইউল্যাবের এমএসজে বিভাগ

ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের (ইউল্যাব) গণমাধ্যম অধ্যয়ন ও সাংবাদিকতা বিভাগ (এমএসজে) সম্প্রতি বাংলাদেশের বিনোদন মাধ্যমের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারি নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করেছে। মঙ্গলবার (১ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানানো হয়।

ইউল্যাব জানায়, বাংলাদেশের বিনোদন মাধ্যমের সাম্প্রতিক প্রবণতাগুলো এবং এই খাতটির বিকাশ ও ব্যবস্থাপনা বা নিয়ন্ত্রণের সম্ভাব্য কৌশল নিয়ে আলোচনা করা শ্বেতপত্রটির মূল উদ্দেশ্য। বিনোদন শিল্পের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার প্রয়াসে কী ধরনের ব্যবস্থাপনা ও আইনি কাঠামো অনুসরণ করা যেতে পারে সে বিষয়ে এই ক্ষেত্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত অংশীদাররাই সর্বোৎকৃষ্ট দিক-নির্দেশনা দিতে সক্ষম বলে শ্বেতপত্রটিতে দাবি করা হয়।

ইউল্যাবের সংশ্লিষ্ট বিভাগ মনে করে, এ দেশের বিনোদন মাধ্যমের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হলে এ ক্ষেত্রের অগ্রগতি ব্যাহত হতে পারে বলে বিনোদন মাধ্যম সংশ্লিষ্ট অনেকে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। জাতীয় স্বার্থ এবং প্রতিটি নাগরিকের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার স্বার্থে কঠোর নীতির বাস্তবায়ন সরকারের জন্য অপরিহার্য। আবার, নাগরিকদের বিনোদন-আধেয়ের চাহিদা পূরণ তথা সমগ্র বিনোদন মাধ্যমের অগ্রগতি নিশ্চিত করতে সক্ষম একটি পরিবেশ তৈরি করাও সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

ইউল্যাবের গণমাধ্যম অধ্যয়ন ও সাংবাদিকতা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান এবং বিশ্ববিদ্যালয়টির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. জুড উইলিয়াম হেনিলো, সহযোগী অধ্যাপক ড. সরকার বারবাক কারমাল এবং সহকারী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবদুল কাদের সম্মিলিতভাবে শ্বেতপত্রটির খসড়া তৈরি করেছেন।

শ্বেতপত্রটির বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে অধ্যাপক জুড উইলিয়াম হেনিলো বিনোদন মাধ্যমগুলোর উন্নয়নের জন্য একটি উপযুক্ত পরিবেশ তৈরিতে ভারসাম্যপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। বিনোদন ও সাংস্কৃতিক চর্চার ক্ষেত্রে এশিয়ার প্রথম সারির দেশ তথা চীন, জাপান কিংবা ভারত কী কৌশল অবলম্বন করে তা পর্যবেক্ষণের প্রতিও জোর দেন তিনি।

অন্যদিকে, কঠোর নীতিমালা বিনোদন শিল্পের অগ্রগতি ব্যহত করতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন শ্বেতপত্রটির অন্যতম প্রণেতা ড. সরকার বারবাক কারমাল। একই ধরনের মত প্রকাশ করে ড. মুহাম্মদ আব্দুল কাদের বলেন, ‘কঠোর নিয়ন্ত্রণ হয়ে উঠতে পারে সংবিধানে বর্ণিত ৩৯ নম্বর অনুচ্ছেদের মাধ্যমে সংরক্ষিত চিন্তা, বাক, মতপ্রকাশ কিংবা সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতার জন্যে হুমকি, যা ক্ষেত্রবিশেষে হয়ে উঠতে পারে খোদ সংবিধান পরিপন্থী।’

শ্বেতপত্রটিতে দাবি করা হয়, বিনোদন মাধ্যম সংশ্লিষ্টিদের সঙ্গে নিয়মিত সংলাপের মাধ্যমে সম্মিলিত সিদ্ধান্ত গ্রহণই রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ বনাম বিনোদন মাধ্যমের অগ্রগতি ইস্যুতে সর্বোৎকৃষ্ট সমাধানের দিক-নির্দেশনা দিতে পারে।