প্রশাসন ঠিকভাবে কাজ করলে এত রিট হতো না: হাইকোর্ট

প্রশাসন আইন মোতাবেক ঠিকভাবে কাজ করলে রিট দায়েরের সংখ্যা অনেক কমে যেতো বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট। কারাগারে চিকিৎসক নিয়োগ নিয়ে করা রিটের শুনানিতে রবিবার (১৩ আগস্ট) বিচারপতি কেএম কামরুল কাদের ও বিচারপতি মোহাম্মাদ শওকত আলী চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন রিটকারী আইনজীবী মো. জে আর খান রবিন।

শুনানির এক পর্যায়ে আদালত বলেন, ‘সব বিষয়ে হাইকোর্টকে নির্দেশ দিতে হবে কেন? প্রশাসন আইন মোতাবেক ঠিকভাবে কাজ করলে রিট দায়েরের সংখ্যা অনেক কমে যেতো।’

পরে আইনজীবী মো. জে আর খান রবিন বলেন, ‘বাংলাদেশে ৬৮টি কারাগারের মধ্যে কারাবিধি অনুযায়ী ১৩টি কেন্দ্রীয় কারাগার ও ৫৫টি জেলা পর্যায়ে কারাগার রয়েছে। কারাবিধি অনুযায়ী কেন্দ্রীয় কারাগারে তিন জন করে এবং জেলা কারাগারে দুই জন করে চিকিৎসক নিয়োগের বিধান রয়েছে। তবে কারা কর্তৃপক্ষ মাননীয় আদালতকে লিখিতভাবে অবহিত করেছেন যে, ১৪১ চিকিৎসকের বিপরীতে বিভিন্ন কারাগারে ১৩৮ জন সংযুক্ত করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এই সংযুক্ত চিকিৎসকদের মধ্যে কেন্দ্রীয় কারাগারে কোনও কোনও ক্ষেত্রে তিন জনের পরিবর্তে দুই জন এবং জেলা কারাগারে দুই জনের পরিবর্তে তিন জন করে চিকিৎসক সংযুক্ত করা হয়েছে। তখন আদালত আইন মোতাবেক বিভিন্ন কারাগারে চিকিৎসক সংযুক্ত করে আগামী ৩০ আগস্টের মধ্যে আদালতকে জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে কারা কর্তৃপক্ষের আইনজীবী আদালতকে অবহিত করেন যে, বিগত ২০০৯ সালে ২৮ জন চিকিৎসককে বিভিন্ন কারাগারে সংযুক্ত করা হলেও সাত জন চিকিৎসক এখন পর্যন্ত যোগদান করেননি; যা বিগত ২৮ জুলাই কারাকর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্য অধিদফতরকে লিখিতভাবে অবহিত করে। তখন আদালতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের আইনজীবী তীর্থ শলীল পাল অবহিত করেন যে— যেসব চিকিৎসক যোগদান করে নাই, তাদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’

এ সময় চিকিৎসক নিয়োগের খসড়া নীতিমালা চূড়ান্ত হতে আর কত সময় লাগবে, তা কারাগার কর্তৃপক্ষের আইনজীবীর কাছে প্রশ্ন রাখেন আদালত।

প্রসঙ্গত, কারা চিকিৎসক সংকট নিয়ে দেশের কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে আদালতে রিট দায়ের করেছিলেন আইনজীবী মো. জে আর খান রবিন।

পরে ২০১৯ সালের ২৩ জুন জারি করা রুলে কারাগারে আইনগত অধিকার নিশ্চিতে মানসম্মত থাকার জায়গা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি হবে না এবং বন্দিদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতে কারা চিকিৎসকের শূন্যপদে নিয়োগ দিতে নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে তা জানতে চেয়েছেন। আইন মন্ত্রণালয় সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সচিব (সুরক্ষা বিভাগ), স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সচিব, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সচিব, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ও কারা মহাপরিদর্শককে এসব রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন।

এছাড়াও অপর এক আদেশে আদালত সারা দেশের সব কারাগারে বন্দীদের ধারণক্ষমতা, বন্দী ও চিকিৎসকের সংখ্যা এবং চিকিৎসকের শূন্যপদের তালিকা দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

পরে ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর দেশের সব কারাগারে শূন্যপদে চিকিৎসক নিয়োগ দিতে কারা কর্তৃপক্ষ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে গত ১১ ডিসেম্বর মধ্যে এই নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে বলা হয়। অন্যথায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হলেও সে আদেশ বাস্তবায়ন না করায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের ডিজিকেও তলব করেছিলেন হাইকোর্ট।