পোশাক শ্রমিকদের মজুরি ২৩ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এবং নিজেদের মর্যাদাপূর্ণ জীবনের কথা চিন্তা করে ন্যূনতম মজুরি ২৩ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকরা।

রবিবার (৩ সেপ্টেম্বর) নিম্নতম মজুরি বোর্ডে স্মারকলিপি পেশ করার আগে সমাবেশে তারা এই দাবি জানান। রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ সমাবেশের আয়োজন করে সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন।

সমাবেশে ফেডারেশনের সভাপতি নাজমা আক্তার বলেন, ‘শ্রম আইনের ১৩৯ ধারা অনুযায়ী প্রতি পাঁচ বছর পরপর নিম্নতম মজুরি হার বৃদ্ধির সুপারিশ ও বাস্তবায়নের বিধান রয়েছে। এর প্রথম ধাপ হিসাবে ইতোমধ্যে একটি নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠিত হয়েছে। সর্বশেষ ২০১৮ সালের ২৫ ডিসেম্বর গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য নিম্নতম মজুরি ঘোষণা করা হয়।’

তিনি বলেন, ‘নিম্নতম মজুরি ঘোষণার পর গত পাঁচ বছরে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিসহ, বাড়ি ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল, চিকিৎসা, শিক্ষাসহ আরও অন্যান্য খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। সে তুলনায় শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি পায়নি। এতে শ্রমিকদের জীবনযাত্রা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পোশাক রফতানিকারক বিভিন্ন প্রতিযোগী দেশের মধ্যে আমাদের তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের বেতন সর্বনিম্ন।’

তিনি আরও বলেন, ‘সিপিডির গবেষণা অনুযায়ী, চার সদস্যের একটি পরিবারের মাসিক খরচ ৪৭ হাজার ১৮২ টাকা। জাতিসংঘের গবেষণায়, ৪১ হাজার ৪০০ টাকা। বিশ্ব ব্যাংকের গবেষণায়, দারিদ্র্যসীমার ঊর্ধ্বে উঠতে হলে মাথাপিছু প্রতিদিন দুই ডলার আয় করতে হবে। সে হিসাবে কমপক্ষে একজন শ্রমিককে সর্বনিম্ন ৩২ হাজার ১০০ টাকা মাসিক আয় করতে হবে।’

নাজমা আক্তার বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী তফসিলি ব্যাংকের সর্বনিম্ন বেতন ২৯ হাজার টাকা। শিক্ষানবীশকালীন ২৮ হাজার এবং অফিস সহকারী, নিরাপত্তা প্রহরী ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের বেতন ২৪ হাজার টাকা ঘোষণা করা হয়েছে। অথচ দেশ ও শিল্পের উন্নয়নে সবচেয়ে বড় অবদান রাখা পোশাক শিল্পের শ্রমিকরা সব সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত ও অবহেলিত। তাই দেশের অর্থনৈতিক গতিশীলতা এবং এই খাতের শ্রমিকদের মর্যাদাপূর্ণ জীবনের কথা চিন্তা করে অবিলম্বে ২৩ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হোক।’

সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক খাদিজা আক্তারসহ অর্ধশতাধিক গার্মেন্টসকর্মী সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশ শেষে তারা নিম্নতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে স্মারকলিপি দিতে যান।