ধর্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি চায় ১৫৬ সংগঠন

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট 
২৩ মে ২০২৬, ১৯:১৯আপডেট : ২৩ মে ২০২৬, ১৯:১৯

দেশে নারী ও শিশুর প্রতি বাড়তে থাকা সহিংসতা, ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন এবং হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে নারী ও শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করা ১৫৬টি সংগঠন ও প্ল্যাটফর্ম। এসব ঘটনাকে ‘জাতীয় জরুরি ইস্যু’ হিসেবে ঘোষণার দাবি জানিয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ (শূন্য সহনশীলতা) নীতি গ্রহণ ও তা বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে তারা।

শনিবার (২৩ মে) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনী মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি তুলে ধরা হয়। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোটসহ দেশের ৬৪ জেলার নারী ও শিশু অধিকারভিত্তিক ১৫৬টি সংগঠন ও প্ল্যাটফর্ম যৌথভাবে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ‘আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোট’র প্রধান নির্বাহী জিনাত আরা হক বলেন, “নারী ও শিশু নির্যাতনের প্রতিটি ঘটনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করতে হবে। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের কার্যকারিতা বাড়িয়ে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের পাশাপাশি নারী এবং শিশু নির্যাতনের মামলা ১৮০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “শুধু আইন প্রণয়ন করলেই হবে না, বাস্তবে ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করাও জরুরি। বিচার চলাকালে নির্যাতনের শিকার নারী, শিশু ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থাও রাখতে হবে।”

এ সময় সরকারের প্রতি ১৭টি দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। দাবিগুলো হলো, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা ও নির্যাতনকে জাতীয় জরুরি ইস্যু হিসেবে ঘোষণা করে সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ; ধর্ষণ, যৌন সহিংসতা, নারী ও শিশু নির্যাতন, হত্যা ও সকল প্রকার সহিংসতার বিরুদ্ধে “জিরো টলারেন্স” নীতি গ্রহণ ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন; হাইকোর্টের দেওয়া ২০০৯ সালের নির্দেশনা অনুযায়ী যৌন হয়রানি প্রতিরোধ আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে কার্যকর ব্যবস্থা; রাষ্ট্রের মাদ্রাসা সহ ধর্মভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নজরদারির জন্য সুস্পষ্ট ও সুষ্ঠু কাঠামো ও প্রক্রিয়া নির্ধারণ; নারী ও শিশু নির্যাতনের প্রতিটি ঘটনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করতে হবে এবং দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শান্তি নিশ্চিত; নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা ১৮০ দিনের মধ্যেই নিষ্পত্তি; বিচার চলাকালে নির্যাতনের শিকার নারী, শিশু ও পরিবারের নিরাপত্তা, চিকিৎসা এবং ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলায় সাক্ষী প্রদান প্রক্রিয়া যুগোপযোগী করতে হবে। 

এছাড়াও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সকল প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত মনিটরিং, স্বাধীন অভিযোগ ব্যবস্থা এবং যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি বাধ্যতামূলক; নারী ও শিশু নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত, দণ্ডপ্রাপ্ত এবং পুনরাবৃত্ত অপরাধীদের তথ্য সমন্বিত করে পুলিশের কাছে থাকা তথ্যের ভিত্তিতে একটি কেন্দ্রীয় ট্র্যাকিং ডাটাবেজ তৈরি; সাইবার সহিংসতা, অনলাইন ব্লাকমেইল ও ডিজিটাল যৌন হয়রানি প্রতিরোধে বিশেষ সাইবার মনিটরিং ও দ্রুত প্রতিকার ব্যবস্থা চালু; থানা পর্যায়ে নারী ও শিশুবান্ধব ডেস্ক শক্তিশালী করতে হবে এবং অভিযোগ গ্রহণে হয়রানি বন্ধ; শিক্ষা কারিকুলামে লিঙ্গসমতা, সম্মানজনক আচরণ, সম্মতি, মানবাধিকার ও সহিংসতা প্রতিরোধ বিষয়ে কার্যকর শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত; স্থানীয় সরকার, নারী সংগঠন, শিক্ষক, গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজকে সম্পৃক্ত করে জাতীয় পর্যায়ে সামাজিক সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক আন্দোলন গড়ে তোলা; গণপরিবহন ও কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে বাধ্যতামূলক নীতিমালা কার্যকর; শিশু সুরক্ষা নীতিমালা বাস্তবায়নে সকল সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কার্যকর তদারকি নিশ্চিত এবং নির্যাতনের ঘটনার তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও প্রকাশে সমন্বিত জাতীয় ডাটা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে নীতিনির্ধারণ ও প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপের দাবি জানানো হয়।

/এএইচএস/এবিএম/
সম্পর্কিত
ছয় বছরের শিশু ধর্ষণ-হত্যা: নিরাপত্তা প্রহরীর তিন দিনের রিমান্ড 
কিশোরীকে অপহরণ করে ঢাকায় নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ, ভগ্নিপতি গ্রেফতার
চট্টগ্রামে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে শিশুকে হত্যা: আসামি রুবেলের মৃত্যুদণ্ড
সর্বশেষ খবর
এক গ্লাসেই লাভের গল্প: রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় পানীয় কেন ‘সোনার খনি’
এক গ্লাসেই লাভের গল্প: রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় পানীয় কেন ‘সোনার খনি’
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা, মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ যুক্তরাষ্ট্রের
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা, মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ যুক্তরাষ্ট্রের
বন্ধ হয়ে আছে দুই রেলওয়ে স্টেশন, নষ্ট হচ্ছে সরকারের কোটি টাকার সম্পদ
বন্ধ হয়ে আছে দুই রেলওয়ে স্টেশন, নষ্ট হচ্ছে সরকারের কোটি টাকার সম্পদ
মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি: এখনও স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছেন সহপাঠী-সহকর্মীরা 
মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি: এখনও স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছেন সহপাঠী-সহকর্মীরা 
সর্বাধিক পঠিত
পরবর্তী ২০৩০ ফিফা বিশ্বকাপের আয়োজক কারা, জেনে নিন সূচি ও নতুন ফরম্যাট
পরবর্তী ২০৩০ ফিফা বিশ্বকাপের আয়োজক কারা, জেনে নিন সূচি ও নতুন ফরম্যাট
কোচের পাঁচ ভুলেই বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার পরাজয়
কোচের পাঁচ ভুলেই বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার পরাজয়
ইলিশের জালে ধরা পড়ছে বড় বড় পাঙাশ, দামও কম
ইলিশের জালে ধরা পড়ছে বড় বড় পাঙাশ, দামও কম
মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো ৪৯ রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স প্রত্যাহার
মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো ৪৯ রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স প্রত্যাহার
সাবান-আইসক্রিমসহ চার প্রতিষ্ঠানের ৮ পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ 
সাবান-আইসক্রিমসহ চার প্রতিষ্ঠানের ৮ পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ