ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায় গোষ্ঠীগত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় ৩৮ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রবিবার রাতে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এর মধ্যে সদর উপজেলার নাটাই দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাবেক চেয়ারম্যান রয়েছেন।
সোমবার (১৩ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত নাটাই দক্ষিণ ইউনিয়নের কালিসীমা পশ্চিম পাড়ায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। চার ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হন। এ সময় উভয় পক্ষের অন্তত অর্ধশতাধিক বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়। খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অর্ধশতাধিক রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়েছে পুলিশ। এরপর থেকে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন নাটাই দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহ আলম, একই ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আরজু মিয়া, ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল কাইয়ুম, ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন, ওই এলাকার বাসিন্দা মনির হোসেন, মজিবুর রহমান, বেদন মিয়া, কামাল খাঁ মেম্বার, সফিকুল ইসলাম, হোসেন মিয়া, নুরুল ইসলাম, ইব্রাহীম মিয়া, বাদল মিয়া, মহিউদ্দিন মিয়া, বাছির মিয়া, মনিরুল ইসলাম, তাজু মিয়া, কুদ্দুছ মেম্বার, ইদন মিয়া, সিরাজ মিয়া, হায়ের আলী, মো. শামীম, আম্বিয়া খাতুন, আসমা আক্তার, ববি বেগম, শিক্ষা বেগম ও লাভলী বেগমসহ ৩৮ জন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ইউনিয়নের কালিসীমা পশ্চিম পাড়ার খানিবাড়ি ও সিরাজ আলী বাড়ির গোষ্ঠীর সঙ্গে দোলাবাড়ি গোষ্ঠীর দ্বন্দ্ব রয়েছে দীর্ঘদিনের। এর মধ্যে একটি গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন জেলা পরিষদ সদস্য বাবুল মিয়া। আরেকটি গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছেন ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) আরজু মিয়া। কয়েকদিন আগে আরজু মেম্বার গ্রুপের বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুল হক শওকত ও তার ছেলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মিল্লাত মিয়াকে মারধর করেন বাবুল মিয়ার গ্রুপের শহিদুল ইসলাম ডাক্তার ও ইসমাইল মিয়ার লোকজন। এ নিয়ে সালিশ বৈঠক হয়। সালিশে বিষয়টি মীমাংসা করে দেওয়া হয়। রবিবার সন্ধ্যায় একই বিরোধ নিয়ে আবারও মুক্তিযোদ্ধা শওকত তার ছেলেকে মারধর করেন প্রতিপক্ষের লোকজন। সোমবার সকালে ঘটনাটি থানায় মীমাংসার জন্য ডাকা হয়। এ খবর গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে দুই গোষ্ঠীর লোকজন একাধিক গ্রুপে বিভক্ত হয়ে একে-অন্যের ওপর হামলা চালান। শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ। এ সময় উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়। সাড়ে চার ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে দুই পক্ষের ১০ জন আহত হন।
সদর থানার ওসি আসলাম হোসেন বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের ৪১ জনকে আটক করা হয়েছে। পরে যাচাই-বাছাই করে ঘটনায় জড়িত ৩৮ জনকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।