মির্জা ফখরুল-আমির খসরুর রিমান্ড শুনানি আজ

নাশকতার অভিযোগে রাজধানীর পল্টন থানায় দায়ের করা এক মামলায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে গ্রেফতার দেখানো ও ১০ দিনের রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানির জন্য আজ সোমবার (১৮ ডিসেম্বর) দিন ধার্য রয়েছে।

ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। গ্রেফতার দেখানো ও রিমান্ড শুনানির জন্য তাদের কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়েছে।

পল্টন থানার আদালতের নিবন্ধন শাখার পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসাআই) শাহ আলম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে গ্রেফতার দেখনোসহ ১০ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পল্টন মডেল থানার পুলিশের উপ-পরিদর্শক সুমিত কুমার। মামলার বিষয়ে শুনানির জন্য উভয় আসামিকে আদালতে হাজির করতে কারাকর্তৃপক্ষের কাছে প্রডাকশন ওয়ারেন্ট পাঠানো হয়েছে।’

এদিকে মির্জা ফখরুলের আইনজীবী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন মেজবাহ বলেন, ‘গ্রেফতার দেখানো ও রিমান্ড আবেদন করা আরও ৯টি মামলা রয়েছে। এজাহারে নাম থাকা ওইসব মামলায় গত দেড় মাসেও পুলিশ গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেনি। এ জন্য আমরা গত ১৩ অক্টোবর ১০ মামলায় জামিনের আবেদন করেছিলাম। পুলিশ গ্রেফতার দেখানোর আবেদন না করায় আদালত কোনও আদেশ না দিয়ে আমাদের উচ্চ আদালতে যেতে বলেন। এর মধ্যে পল্টন থানায় সাতটি এবং রমনা মডেল থানার তিন মামলা রয়েছে।’ 

গত ২৯ অক্টোবর সকালে রাজধানীর গুলশানে নিজের বাসা থেকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আটক করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। এরপর হত্যা ও গাড়ি পোড়ানোর ঘটনায় পল্টন থানার মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। ওই দিন আদালতে হাজির করা হলে ঢাকার মেট্রোপলিটন মাজিস্ট্রেট আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এরপর থেকে মির্জা ফখরুল কারাগারে রয়েছেন।

২ নভেম্বর দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে গুলশানের বাসা থেকে আমির খসরুকে আটক করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। ৩ নভেম্বর তার ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। ৯ নভেম্বর রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

জানা গেছে, ২৮ অক্টোবর রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির মহাসমাবেশ ছিল। মহাসমাবেশ শুরুর আগেই কাকরাইলে দুপুর থেকে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। বিজয়নগর পানির ট্যাংক ও শান্তিনগর এলাকা পর্যন্ত সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বেলা ৩টার দিকে বিএনপির মহাসমাবেশ পণ্ড হয়ে যায়।

বিএনপির মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে পুলিশের এক সদস্য এবং যুবদলের ওয়ার্ড পর্যায়ের এক নেতা নিহত হন। আহত হন পুলিশের ৪১ ও আনসারের ২৫ সদস্য।  এ ঘটনায় কমপক্ষে ২০ জন সাংবাদিক আহত হন। সংঘর্ষে হাজারের বেশি নেতাকর্মী আহত হন, দাবি বিএনপির।