‘ডামি আর স্বতন্ত্র এক না’

প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্য সচিব ও কবি কামাল আবু নাসের চৌধুরী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী চেয়েছেন কেউ যেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত না হন। নির্বাচন যেন অংশগ্রহণমূলক হয়। আর অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। সুতরাং ‘ডামি’ এবং স্বতন্ত্র এক জায়গায় মেলানো যাবে না। কারণ স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এখন অনেক জায়গায় মূল প্রতিদ্বন্দ্বী। তাহলে কীভাবে তাকে ‘ডামি’ প্রার্থী বলা যাবে। অনেকেই এই দুটোকে এক করে ফেলার চেষ্টা করছে।

শনিবার (২৩ ডিসেম্বর) রাজধানীর বনানী ঢাকা গ্যালারিতে এডিটরস গিল্ড আয়োজিত ‘নির্বাচন- অংশগ্রহণ- নাশকতা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। এডিটরস গিল্ড সভাপতি মোজাম্মেল বাবু গোলটেবিল আলোচনা সঞ্চালনা করেন।

আলোচনায় বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম বলেন, আমরা সবাই কিন্তু একটা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চাই। কেউ যদি না আসতে চায় নির্বাচনে তাকে কিন্তু জোর করে আনা যাবে না। বাংলাদেশের ইতিহাসে কেউ না কেউ কখনও না কখনও নির্বাচন বর্জন করেছে। ১৯৯১ সালের নির্বাচন কিন্তু ‘অতি বামরা’ বর্জন করেছিল। মাওলানা ভাসানি ১৯৭০ সালের নির্বাচন বর্জন করেন। তার অনুসারিরা ১৯৭৩ সালের নির্বাচন বর্জন করেন। আবার জিয়াউর রহমানের আমলে একেবারে দলে বলে ভোটে চলে গেলেন। এমনকি রাশেদ খান মেনন সেই নির্বাচনে অংশ নিয়ে একটা আসনে নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরশাদের ১৯৮৬ সালের ভোটে, জিয়াউর রহমানের হ্যাঁ-না ভোটে সব নির্বাচনে তাদের আমরা দেখেছিলাম। ভোটের এই নানা মেরুকরণ অতীতেও ছিল।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার বলেন, একটা জাতীয় নির্বাচন যখন আসে তখন মানুষের মধ্যে আগ্রহ থাকে যে কোন দল জয়ী হবে, কারা সরকার গঠন করবে। আমরা এভাবে দেখে অভ্যস্ত। অনেকেই এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, মূলত এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা যাদের মধ্যে হয় তারা ক্ষমতাসীন এবং ক্ষমতা প্রত্যাশী। এবারের নির্বাচনে ফাইনালি যারা অংশ নিচ্ছেন তারা একটি পক্ষের। সেদিক থেকে এই নির্বাচনে সরকারের হারানোর কিছু নেই। সরকার পরাজিত হওয়ার কোনও বিষয় নেই। সেই অর্থে এটাকে প্রকৃত নির্বাচন বলা যাবে কিনা– এ নিয়ে অনেকের মধ্যে দ্বিধা আছে। তবে এই নির্বাচনে যারা অংশ নিচ্ছেন তাদের মধ্যে কোথাও কোথাও প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।  

সিনিয়র সাংবাদিক মাসুদ কামাল বলেন, বড় বড় ফুটবল দল কিন্তু প্রতিদিন খেলে না। অন্য সময় প্র্যাকটিস করে। তখন কিন্তু নিজেরা দুই দলে ভাগ হয়ে খেলে। সেই খেলা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়, দুর্দান্ত হয়। কিন্তু সেই খেলা কেউ টিকিট কেটে দেখতে যায় না। সেই খেলায় যে সবচেয়ে ভালো খেলে মূল ম্যাচে তাকেও বসিয়ে রাখে কৌশলগত কারণে। এবার যে নির্বাচন হচ্ছে সেখানে আওয়ামী লীগ ৩ টিম করতে পারে, ৫ টিমও করতে পারে যেহেতু তারা অনেক বড় দল। দল নির্ধারণের দায়িত্ব শেখ হাসিনার, তিনি তার কৌশলে দল সাজিয়েছেন। তিনি ইচ্ছা করে এমন লোককে মনোনয়ন দিয়েছেন, যে ফেল করবে এটা তিনিও জানেন। কাজেই এখানে তারও স্ট্রাটেজি আছে। এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে, মারামারিও হবে, সেভাবে তিনি সাজিয়েছেন।

আলোচনায় আরও অংশ নেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) শাহাদত হোসেন চৌধুরী, দৈনিক আমাদের নতুন সময়ের এমিরেটাস সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক ফারুখ ফয়সাল, মানবাধিকার কর্মী খুশি কবির এবং সাবেক আইজিপি ও রাষ্ট্রদূত ড হাসান মাহমুদ খন্দকার।