বাসার বিভিন্ন জিনিসপত্র সংগ্রহ শেষে বালিশের নিচে থাকা মোবাইল ফোন ও টাকার ব্যাগ নিতে যায় চোর! এমন সময় ঘুম ভেঙে যায় বাড়ির মালিক নির্মল দেবনাথের (৪৩)। তিনি চিৎকার দিলে পালানোর চেষ্টা করে চোর মাসুম বিল্লা। তবে বাড়ির প্রধান গেট বন্ধ থাকায় বের হতে পারে না। পরে বটি দিয়ে তাকে কোপ দেওয়ার চেষ্টা করেন নির্মল। সেই বটি কেড়ে নিয়ে নির্মলকে কুপিয়ে হত্যা করে গেট খুলে পালিয়ে যায় মাসুম।
২০২৩ সালের ১৪ নভেম্বর দিবাগত রাতের এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মাসুমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গত ৬ মার্চ নরসিংদীর মাধবদী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় উদ্ধার করা হয় হত্যায় ব্যবহৃত বটি ও চুরি যাওয়া মোবাইল ফোন।
রবিবার (১০ মার্চ) রাজধানীর ধানমন্ডি পিবিআই সদরদফতরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান নরসিংদী জেলার পিবিআই ইউনিটের ইনচার্জ (অতিরিক্ত ডিআইজি) মো. এনায়েত হোসেন মান্নান।
তিনি বলেন, মাধবদীর দক্ষিণ বিরামপুর এলাকার নির্মল দেবনাথ পেশায় একজন মিষ্টি কারিগর ও ব্যবসায়ী। ১৪ নভেম্বর নির্মলের স্ত্রী মনি দেবনাথ সন্তানদের নিয়ে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনে জন্য তার বাবার বাড়ি যান। পেশাগত কাজ শেষে রাতে বাড়িতে ফিরে ঘুমিয়ে যান নির্মল। ১৫ নভেম্বর বাড়ি ফিরে নির্মলের স্ত্রী বাড়ির প্রধান ফটক খোলা দেখেন।’
মো. এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, ‘নির্মলের স্ত্রী দেখেন, ঘরের আসবাবাপত্র ও কাপড় চোপড় এলোমেলো অবস্থায় পড়ে আছে। পাশের রুমের খাটের ওপর নির্মলের রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান তিনি। কোনও মালামাল খোয়া না গেলেও নির্মলের ব্যবহৃত একটি বাটন ফোন চুরি হয়। এই ঘটনায় নিহতের ছেলে বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেন। ঘটনার এক মাস পর পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশে মামলার তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই।’
এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, ‘পিবিআই তদন্তে নেমে প্রথমে চুরি যাওয়া মোবাইল ফোনটি উদ্ধারের চেষ্টা করে। তথ্য-প্রযুক্তির মাধ্যমে পিবিআইয়ের তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানতে পারেন, নিহত নির্মলের মোবাইল ফোনটি ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর এলাকার লাইলি নামে এক নারী ব্যবহার করছেন। অভিযান চালিয়ে মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।’
অতিরিক্ত ডিআইজি বলেন, ‘লাইলি তদন্ত কর্মকর্তাদের জানান, মাধবদীতে কর্মরত থাকা অবস্থায় প্রেমিক সাকিল ফোনটি তাকে উপহার দেয়। এ তথ্যের ভিত্তিতে সাকিলকে নরসিংদীর পলাশ থানা এলাকা থেকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সাকিল জানান, রবিন নামে একজনের কাছ থেকে ২৫০ টাকায় মোবাইল ফোনটি কিনে লাইলিকে দেন তিনি।’
এনায়েত হোসেন বলেন, ‘পরে মাধবদী থানা এলাকা থেকে রবিনকে আটক করা হয়। সে জানায়, ফুপাতো ভাই মাসুম বিল্লা মোবাইল ফোনটি বিক্রির জন্য তাকে দিয়েছিল। পরে মাসুম বিল্লাকে গ্রেফতারে মাঠে নামেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা। পরে মাধবদী থেকে মাসুম গ্রেফতার হয়।’
তিনি আরও জানান, মাসুম পেশাদার চোর। তার বিরুদ্ধে চুরির একাধিক মামলা রয়েছে। কারগার থেকে বের হয়েই চুরি করতো সে। তেমনই চুরির উদ্দেশ্যে ১৪ নভেম্বর রাতে নির্মলের বাড়িটি টার্গেট করে। প্রথমে রান্নাঘরের ভেন্টিলেটার ও জানালা দিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। পরে ছাদে গিয়ে দরজা খোলা পেয়ে ভেতরে প্রবেশ করে মাসুম। গ্রেফতারের পর হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে মাসুম। বর্তমানে সে কারাগারে রয়েছেন বলেও জানান পিবিআইয়ের এই কর্মকর্তা।