দাবি না মানলে ঈদের পর কঠোর আন্দোলন: আইবিসি

যেসব কারখানায় ঘোষিত নিম্নতম মজুরি এখনও বাস্তবায়ন করা হয়নি, সেসব কারখানায়  অবিলম্বে নিম্নতম মজুরি বাস্তবায়ন এবং শ্রমিকদের জন্য নিয়মিত রেশনিং ব্যবস্থা চালুসহ ৬ দফা দাবি জানিয়েছে ইন্ডাস্ট্রি অব বাংলাদেশ কাউন্সিল (আইবিসি)। এসব কারখানায় অবিলম্বে এই দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বাজেট বরাদ্দেরও দাবি জানিয়েছেন সংগঠনের তারা। দাবি বাস্তবায়ন না হলে ঈদের পর কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন নেতারা।

মঙ্গলবার (১১ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ৬ দফা দাবির কথা তুলে ধরেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. শহীদুল্লাহ বাদল।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শহীদুল্লাহ বাদল বলেন, ২০২৩ সালে মিরপুরে শ্রমিক অসন্তোষ হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শ্রমিকদের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালু করার আশ্বাস দিয়েছিলেন। আমরা দীর্ঘদিন আশায় বুক বেঁধে ছিলাম এবং গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য রেশনিং প্রথা চালু করার দাবি জানিয়ে আসছিলাম। কিন্তু তার কোনও ফল আমরা বাজেটে দেখতে পাচ্ছি না।

তিনি আরও বলেন, উত্থাপিত বাজেটে গার্মেন্টস শ্রমিকদের নিয়মিত 'রেশন' প্রদানের জন্য কোনও ধরনের ব্যবস্থা, প্রস্তাবনা, অর্থ বরাদ্দ আমাদের চোখে পড়েনি। তাই আমরা দারুণভাবে মর্মাহত।

বিভিন্ন দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, গার্মেন্টস শ্রমিকদের নিয়মিত রেশন প্রদানের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বাজেটে অর্থ বরাদ্দ রাখতে হবে। ঈদুল আজহার আগে বেতন, বোনাস, বকেয়া বেতনসহ সব পাওনাদি পরিশোধ করতে হবে। যেসব কারখানায় ঘোষিত নিম্নতম মজুরি এখনও বাস্তবায়ন করা হয়নি, সেসব কারখানায় নিম্নতম মজুরি বাস্তবায়ন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, শ্রমিকবান্ধব শ্রম আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে সংশোধনীসহ শ্রম আইন পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করতে হবে। প্রতিটি শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক হাসপাতাল, বাসস্থান এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করতে হবে এবং মজুরি আন্দোলনে নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন করতে হবে এবং শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সব মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে আইবিসির সহসভাপতি জেড এম কামরুল আনাম বলেন, রেশনিং প্রথা চালুর জন্য আমরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছিলাম। কিন্তু এর প্রতিফলন প্রস্তাবিত বাজেটে দেখতে পাইনি। এর জন্য আমরা ঈদের পরে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করবো। আন্দোলন ছাড়া এখানে কোনও দাবি আদায় হয় না।

গার্মেন্টসে নিম্নতম মজুরি ও রেশনিং চালু না হওয়ার পেছনে মালিকদের দায়ী করে তিনি বলেন, সবাই এটা চালু করার পক্ষে। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে মালিকদের মনোভাবের সমস্যা। তারা এগুলো দিতে চায় না। তারা চায়— যতক্ষণ না দিয়ে চলা যায়, ততক্ষণ সেভাবেই চালাতে। মালিকপক্ষের এমন মনোভাব পরিবর্তন করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন— আইবিসির সহসভাপতি মীর আবুল কালাম আজাদ, সহসাধারণ সম্পাদক শহিদুল্লাহ ভূইয়া, সাবেক সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা কুতুবউদ্দিন আহমেদ, শাহাদাৎ হোসেন, হাসি আক্তার প্রমুখ।