সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা ব্যবস্থা পুনর্বহালের প্রতিবাদ ও কোটা প্রথা বাতিলসহ ২০১৮ সালের কোটা বাতিলের পরিপত্র পুনর্বহালসহ চার দফা দাবিতে রাজধানীর তাঁতিবাজারে অবস্থান নেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা। সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান নেওয়ার পর সড়ক ছেড়ে সরে যান তারা।
বুধবার (৩ জুলাই) দুপুরের পর ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়’ ব্যানারে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে থেকে মিছিল নিয়ে তাতিঁবাজার মোড়ে জড় হন তারা। এ সময় ইংলিশ রোড ও জনসন রোডে তীব্র যানজট তৈরি হয়। শিক্ষার্থীরা সরে যাওয়ার পর সড়ক ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই’, ‘আঠারোর হাতিয়ার জেগে উঠো আরেকবার’, ‘সারা বাংলায় খবর দে, কোটা প্রথায় কবর দে’, ‘কোটা প্রথা নিপাত যাক, মেধাবীরা মুক্তি পাক’সহ নানা স্লোগান দিতে থাকে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী শাহীনুর ইসলাম সান বলেন, ‘আমাদের কোনোদিনও ইচ্ছা ছিল না রাস্তায় নামার। আমরা দীর্ঘদিন বৈষম্যের শিকার হয়েছি। সেই বৈষম্যের প্রতিবাদে আজ রাস্তায় নেমেছি। আর কত দিন আমাদের বৈষম্যের শিকার হতে হবে? বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল রাষ্ট্র। যে রাষ্ট্রের বেশিরভাগ শিক্ষার্থী নিম্ন মধ্যবিত্ত। আমাদের একটি সরকারি চাকরি দরকার, সেখানে আমরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছি। আমরা এই বৈষম্যের প্রতিবাদ জানাই।’
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী জসিম উদ্দিন বলেন, ‘আমরা সংস্কার না সম্পূর্ণ কোটা বাতিল চাই। দাবি না মানা পর্যন্ত আমাদের লাগাতার রাস্তা অবরোধ কর্মসূচি চলবে।’
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবি হলো- ২০১৮ সালে ঘোষিত সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের পরিপত্র বহাল রাখতে হবে; ২০১৮ এর পরিপত্র বহাল সাপেক্ষে কমিশন গঠন করে দ্রত সময়ের মধ্যে সরকারি চাকরিতে (সব গ্রেডে) অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাদ দিতে হবে এবং কোটাকে ন্যূনতম পর্যায়ে নিয়ে আসতে হবে। সে ক্ষেত্রে সংবিধান অনুযায়ী কেবল অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর কথা বিবেচনা করা যেতে পারে; সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা সুবিধা একাধিকবার ব্যবহার করা যাবে না এবং কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে শূন্য পদগুলোতে মেধা অনুযায়ী নিয়োগ দিতে হবে; দুর্নীতিমুক্ত, নিরপেক্ষ ও মেধাভিত্তিক আমলাতন্ত্র নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।