‘রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক, ডাক্তারকে ডাকতে গেলেই স্বজনকে মারলেন লাথি’ গত ৪ জুলাই সন্ধ্যায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুকুমার মজুমদারের বিষয়ে এমন খবরকে অমানবিক ও অনভিপ্রেত বলে মন্তব্য করেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। একইসঙ্গে এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন ও তদন্ত শেষে আগামী ২০ আগস্ট প্রতিবেদন দিতে রংপুর জেলা প্রশাসককে কমিশনের পক্ষ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা ইউশা রহমান জানান, গত ৫ জুলাই ‘রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক, ডাক্তারকে ডাকতে গেলেই মারলেন লাথি’ শিরোনামে গণমাধ্যমে প্রচারিত প্রতিবেদনটি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের নজরে আসে। এ ঘটনায় কমিশন স্বতঃপ্রণোদিত অভিযোগ (সুয়োমটো) গ্রহণ করেছে। কমিশনের চেয়ারম্যান ড. কামাল উদ্দিন আহমেদের সই করা সুয়োমোটো আদেশ দেওয়া হয়েছে।
আদেশে বলা হয়েছে, সুকুমার মজুমদার নিয়মিত রোগী দেখেন পপুলার-২ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। গত ৪ জুলাই ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীর ছালমা বেগম বলেন, তার চাচা দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর অসুস্থ। ১৪ দিন আগে অসুস্থ চাচাকে নিয়ে ডা. সুকুমার মজুমদারকে দেখান। এ সময় তিনি প্রেসক্রিপশন দিয়ে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে ভর্তি করাতে বলেন। দুই সপ্তাহ পরও তার চাচার অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় পপুলার-২ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডা. সুকুমার মজুমদারকে দেখাতে নিয়ে যান। কিন্তু অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়া সত্ত্বেও তিনি সিরিয়াল দিচ্ছিলেন না। এক পর্যায়ে তার চাচা নিঃশ্বাস নিতে পারছিলেন না। শেষে তিনি ডাক্তারের রুমে গেলে উনি কোনও কিছু বলার আগেই তার পেটে লাথি মারে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চান।
নারীকে লাথি মারার ব্যাপারে জানতে চাইলে ডা. সুকুমার মজুমদার সাংবাদিকদের বলেছেন, ওই নারী জোর করে চেম্বারে ঢোকার চেষ্টা করলে তার সহকারী তাকে বাধা দেন। পরে জোর করে চেম্বারে ঢোকেন। এতে রেগে গিয়ে আমি তাকে ধাক্কা দেই। তার পেটে লাথি মারার কথা মিথ্যা। তবে যেহেতু তাকে রেগে গিয়ে ধাক্কা মেরেছি সেজন্য তার কাছে ক্ষমা চেয়েছি। ভবিষ্যতে যেন এমন না হয় এ ব্যাপারে সতর্ক থাকব।