কোটা আন্দোলন: কোর্ট এলাকায় গুলিবিদ্ধ ৪ শিক্ষার্থী

কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ও কবি নজরুল কলেজের চার শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সংলগ্ন স্টার হোটেলের সামনে বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করে বলেন, রাজধানীর পুরান ঢাকার আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা এই গুলিবর্ষণ করেছে। এতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ফেরদৌস জামান, ১৭তম ব্যাচের মার্কেটিং বিভাগের অনিক এবং কবি নজরুল কলেজের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থী হাসিব ও মোহাম্মদ নাসিম গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাদের ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

গুলিবিদ্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল অফিসার ডা. আরিফ বলেন, ‘চার জনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ও ১ জনকে ছুরিকাঘাতে আহত অবস্থায় পেয়েছি। গুলিবিদ্ধ চার জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আর ছুরিকাঘাতের একজনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’

এ বিষয়ে কোতোয়ালি জোনের এএসপি নজরুল সাংবাদিকদের বলেন, ‘গুলির খবর শুনেছি। তবে আমরা একটি গ্রুপকে মিছিল করতে দেখেছি। অন্য গ্রুপ দেখিনি।’

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) বিকাল ৩টার দিকে স্ট্যাম্প ও লাঠিসোঁটা নিয়ে ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘আন্দোলনে হামলা কেন? ‘প্রশাসন জবাব চাই’, ‘কোটা না মেধা, মেধা, মেধা’, ‘দালালি না রাজপথ, রাজপথ রাজপথ’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।

এদিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বাংলাদেশ ছাত্রলীগের পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির উদ্দেশে দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটের দিকে বাসে করে ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যান। তবে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেওয়ায় পুরান ঢাকার স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ক্যাম্পাসের সামনে শোডাউন করতে দেখা যায়।