এশিয়ান ট্যুরিজম মেলার শেষ দিনে উপচে পড়া ভিড়

এয়ারলাইন্স থেকে শুরু করে ট্রাভেল এজেন্সি ও রিসোর্ট—সবকিছুতেই ছাড়। পর্যটক টানতে এমন আকর্ষণীয় সুযোগ গ্রহণে ভ্রমণপিপাসু মানুষের উপচে পড়া ভিড়। ১১তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারের শেষ দিনে এমন চিত্রই দেখা গেছে।

রাজধানীর বসুন্ধরা কনভেশন সেন্টারে গত ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই মেলার আজ শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) ছিল শেষ দিন।

সরেজিমনে দেখা যায়, সকাল থেকে ভ্রমণপিপাসু মানুষের ভিড় সেখানে। বিভিন্ন স্টলে স্টলে ঘুরছেন আর দেখছেন। মেলায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন এয়ারলাইন্স ও ট্রাভেল এজেন্সি নানা ছাড়ের সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা করছে।

মেলায় আসা ড. নাসরিন বললেন, বিশ্বকে দেখতে হবে, চিনতে হবে। এ কারণে আপনাকে ভ্রমণ করতে হবে। আপনার মানসিকতার পরিবর্তন আনতে হলেও আপনাকে ভ্রমণ করতে হবে। ভ্রমণে মান ও মানবিকতা বিকাশ ঘটে।

তিনি আরও বলেন, মেলায় বিভিন্ন স্টলে নানা অফারে খুশি হয়েছি। আরও বেশি অফার হলে আরও ভালো লাগতো। তারপরও যে ছাড় দেওয়া হচ্ছে, তাতে সবাই খুশি হবেন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশ ও দেশের বাইরে অপনি যেকোনও স্থানেই ভ্রমণ করতে পারেন। আমাদের এ দেশ অপরূপ। সুন্দর সুন্দর পর্যটন স্পট রয়েছে।

মেলায় ঘুরতে আসা মামুন আব্দুল্লাহ বলেন, ভ্রমণপিপাসু মানুষের জন্য এ ধরনের মেলা খুবই কার্যকরি। অন্যান্য সময় সেই রকম ছাড় না পেলেও মেলা হলেই কিছু না কিছু ছাড় আসে। ছাড়ের সুযোগে যে পরিমাণ পর্যটক অন্যান্য সময় থাকে তার চাইতে বেশি আসে এই সময়টাতে।

জাকির হোসেন নামের আরেক ব্যবসায়ী বলেন, মেলা হলেই ছাড় পাওয়া যায়। এয়ারলাইন্সগুলো যেমন ছাড় দেয়, ট্রাভেল এজেন্সিরাও নানা ধরনের প্যাকেজ ছাড় দেয়। এটি আমাদের মতো পর্যটকদের জন্য খুব কাজে লাগে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এই মেলায় টাইটেল স্পন্সর হিসেবে অংশ নিয়েছে। রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এই এয়ারলাইন্স টরন্টো, ম্যানচেস্টার, সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক, চেন্নাই, নারিতা, গুয়াংজু, কাঠমান্ডু, কলকাতা ও দিল্লি রুটের টিকিটের বিদ্যমান মূল ভাড়ার ওপর ১৫ শতাংশ বিশেষ মূল্যছাড় দিচ্ছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগের ব্যবস্থাপক (রাজস্ব) গোলাম মোস্তফা বলেন, বর্তমানে আমাদের বেশ কয়েকটি রুটে ছাড় চলছে। আমাদের স্টল থেকে সেটি প্রচারও করা হচ্ছে। আমরা ভালো সাড়াও পাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, এই ছাড়টি মেলার পাশাপাশি দেশের যেকোনও স্থান থেকেই নেওয়া সম্ভব। তিন দিনের এই মেলায় আমরা ভালো সেবা দিয়েছি।

মেলায় মালদ্বীপের ট্যুরিজম বোর্ড থেকে প্রথম অংশ নেওয়া হয়েছে।

মর্কেটিং বিভাগের ডেপুটি ম্যানেজার জিহুনি রাশেদ বলেন, মালদ্বীপে পর্যটক যাওয়ার দিক দিয়ে বাংলাদেশ ১৪তম স্থানে রয়েছে। আমরা এটিকে সামনের দিকেও দেখতে চাই। বাংলাদেশের মানুষ ভ্রমণপ্রিয়। আমরা আমাদের দেশ ভ্রমণের আহ্বান জানাচ্ছি। আমাদের কিছু অফারও আছে। মেলায় অংশ নিয়ে আমরা ভালোই সাড়া পাচ্ছি। আমাদের ভালো লেগেছে।

শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইন্সের সেলস ও মার্কেটিং ম্যানেজার বলেন, আমরাও বেশ কিছু অফার নিয়ে মেলায় এসেছি। সাড়াও ভালো পেয়েছি।

এদিকে ছুটি রিসোর্ট অংশ নিয়েছে মেলায়। তাদের রিসোর্টেও পাশাপাশি মালিকানা নেওয়ারও ভালো প্রচার-প্রচারণা করছে তারা।

ডেপুটি ম্যানেজার আরিফুল ইসলাম রাহাত বলেন, পূর্বাচলে আমাদের থ্রি-স্টার হোটেল নির্মাণ হচ্ছে। সেখানে মালিকানার বিষয়েও আমরা কথা বলছি। মেলায় আমরা ভালো সাড়া পাচ্ছি। 

মেলায় বিভন্ন ট্রাভেল এজেন্সির প্রায় অর্ধশতাধিক স্টল অংশ নিয়েছে।