আইচি মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের দ্রুত মাইগ্রেশনের চালুর দাবি

অনিয়ম, দুর্নীতি করে মাইগ্রেশন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হওয়ায় ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন রাজধানীর বেসরকারি আইচি মেডিক্যাল কলেজের ১৫০ শিক্ষার্থী।

তাদের অভিযোগ, সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার্থীদের মাইগ্রেশনের জন্য স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতর অনাপত্তিপত্র দিলেও মাইগ্রেশন ঠেকাতে নানা টালবাহানা শুরু করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষাজীবন বাঁচাতে দ্রুত মাইগ্রেশন প্রক্রিয়া শেষ করার আহ্বান জানান তারা।

ররিবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন করে কলেজটির শিক্ষার্থীরা এ দাবি জানান।

লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান বলেন, প্রতিষ্ঠার ছয় বছরেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিতে ব্যর্থ হওয়াসহ কলেজ কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি করে মাইগ্রেশন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হওয়ায় ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন রাজধানীর বেসরকারি আইচি মেডিক্যাল কলেজের ১৫০ শিক্ষার্থী। তারা চলতি বছরের জুন থেকে সব ধরনের শিক্ষা কার্যক্রম বর্জন করে আসছেন। তাতেও মালিকপক্ষের কোনও সাড়া না পাওয়ায় গত আগস্টে তারা অনুমোদনের বিষয়ে কলেজ উদাসীন কেন জানতে চান। তাদের ভবিষ্যতের কথা তুলে ধরলে আইচি মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ অনুমোদনের ব্যাপারে ২৮ আগস্ট অপারগতা প্রকাশ করে। শিক্ষার্থীদের অন্য কলেজের মাইগ্রেশনে তাদের কোনো আপত্তি নেই বলে জানায়।

তিনি আরও বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে মাইগ্রেশনের জন্য বিভিন্ন ডকুমেন্ট চাইলে শিক্ষার্থীরা যথাসময়ে তা জমা দিয়েছেন। কিন্তু সম্প্রতি কলেজ কর্তৃপক্ষ উদাসীনতা শুরু করেছে। গুটি কয়েক শিক্ষক বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে মাইগ্রেশনে অপেক্ষারত শিক্ষার্থীদের কলেজে রাখার চেষ্টা শুরু করেছেন।

আরেক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ইফ্ফাত জাহান বলেন, ২০১৭ সালে বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনা ও পরিচালনা নীতিমালা ২০১১ (সংশোধিত)-এর বাস্তবায়নের জন্য কলেজটিকে কিছু শর্তারোপ করে। এটি পালনে ব্যর্থ হওয়ায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে আইচি মেডিক্যাল কলেজকে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে এমবিবিএস কোর্সে কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করার বিষয়ে চিঠি দেয়।

পরে এ নিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ হাইকোর্ট বিভাগে মন্ত্রণালয়ের জারি করা সাময়িক ভর্তি স্থগিতাদেশকে চ্যালেঞ্জ করে একটি রিট আবেদন করে ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষ থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি করায়। কিন্তু ওই ছাত্র-ছাত্রীরা বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল কর্তৃক রেজিস্ট্রেশন ও স্বাস্থ্য অধিদফতর কর্তৃক তালিকাভুক্ত হননি।

মাইগ্রেশন প্রক্রিয়ার এই অনিশ্চয়তার কারণে ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় পড়েছে উল্লেখ করে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা বলেন, শিক্ষার্থীদের নিশ্চিত ভবিষ্যতের আশায় অন্য মেডিক্যাল কলেজে মাইগ্রেশন দিতে কলেজ কর্তৃপক্ষের কোনও আপত্তি নেই বলে অনাপত্তিপত্র জারি করে। কিন্তু মাইগ্রেশন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতে কলেজ কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন অসদুপায় অবলম্বন করছে। মাইগ্রেশন সংক্রান্ত কাজের জন্য বিভিন্ন ডকুমেন্টস চাইলে তা দিতে অপারগতা প্রকাশ বা গড়িমসি করছে। ফলে মাইগ্রেশন প্রক্রিয়ায় প্রচণ্ড কালক্ষেপণ হচ্ছে।

তিনি বলেন, তা ছাড়া হোস্টেলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের হোস্টেল ছাড়াতে বিভিন্ন ফন্দি করছে তারা। কলেজ কর্তৃপক্ষের অবহেলায় এখন আমাদের শিক্ষাজীবনের অনেকখানি সময় নষ্ট হয়ে গেছে। মানহীন কোনও মেডিক্যাল কলেজে পড়াশোনা করে মানুষের জীবন নিয়ে খেলার ইচ্ছা আমাদের নেই। আমরা সবাই মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। আমাদের ভবিষ্যতে ভালো মানের ডাক্তার হওয়ার জন্য নিয়মিত অধ্যয়ন করা জরুরি। এ অবস্থায় আমাদের দ্রুত মাইগ্রেশন না করলে অনেক শিক্ষার্থীর অকালে ঝরে যাওয়ার আশঙ্কা আছে।

এ সময় স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতর ও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করে ১৫০ শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন বাঁচাতে দ্রুত মাইগ্রেশন প্রক্রিয়া শেষ করার আহ্বান জানান তারা।