‘সড়ক দুর্ঘটনা আমার পরিবারকে ট্রমার মধ্যে নিয়ে গেছে’

সড়ক দুর্ঘটনা আমার সাজানো-গোছানো পরিবারকে ট্রমার দিকে নিয়ে গেছে। শুধু বাস চালকের অসম প্রতিযোগিতার কারণে আমার মেয়ে অকালে মারা গেলো। এক নিমেষেই সব শেষ।

রবিবার (১৭ নভেম্বর) ‘ওয়ার্ল্ড ডে অব রিমেমবারেন্স ফর রোড ট্রাফিক ভিক্টিমস’ উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন গত ৯ অক্টোবর প্রগতি সরণিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত তাসনিম জাহান আইরিনের বাবা সাইফুল আলম ।

তিনি বলেন, ‘বাস চালকদের অসম প্রতিযোগিতার কারণে ঢাকা শহরে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা হয়। সড়ক দুর্ঘটনা বন্ধে জরুরিভাবে এমন পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, যাতে বাস চালকরা অসম প্রতিযোগিতায় লিপ্ত না হন।’

সভায় সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক খন্দকার আব্দুল আউয়াল রিজভী বলেন, ‘আমাদের দেশে সড়কে মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। সড়কে প্রাণহানি ঘটছে এটা সত্য, অথচ এটা প্রতিরোধযোগ্য। উন্নত দেশের মতো জাতিসংঘ স্বীকৃত নিরাপত্তা কৌশল অনুসরণ করে সড়ক নিরাপত্তা আইন করা প্রয়োজন।’

গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের ইন-কান্ট্রি কোঅর্ডিনেটর ড. শরিফুল আলম বলেন, ‘সমস্যার প্রকৃত সমাধান করতে হলে বাস্তবতাকে মেনে নিতে হবে। সড়কে মৃত্যুর মিছিল বন্ধ করতে হলে প্রথমেই সড়কে প্রাণহানির প্রকৃত সংখ্যা উদঘাটন করে এর সমাধান করা প্রয়োজন। তাই সড়ককে নিরাপদ করতে আলাদা করে সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন করা জরুরি।’

সভাপতির বক্তব্যে বিআরটিএর চেয়ারম্যান (গ্রেড-১) মো. ইয়াসীন বলেন, ‘সড়ককে নিরাপদ করতে সবার একযোগে কাজ করতে হবে। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সবার সচেতন হতে হবে। বর্তমান সংস্কার ভাবনায় পৃথক সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের বিষয়ে বিআরটিএর ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে।’  

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ প্রতি বছরের মতো এবারও সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতদের স্বরণে ‘ওয়ার্ল্ড ডে অব রিমেমব্রেন্স ফর রোড ট্রাফিক ভিক্টিমস’ দিবস পালন করে। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘আমরা স্মরণ করি যারা রোডক্র্যাশে মারা গেছেন তাদের, সহায়তা নিয়ে থাকতে চাই আহতদের পাশে এবং জীবন বাঁচাতে নিতে চাই কার্যকর উদ্যোগ’।

সভায় আরও ছিলেন– হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ইকবাল হোসাইন, বিআরটিএ’র রোড সেফটি পরিচলাক গোলাম মাহবুব ই রাব্বানি, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সোহেল রেজা চৌধুরী প্রমুখ।