লেখক ও গবেষক ড. জাহেদ-উর-রহমান বলেন, উর্দুভাষী ও বাঙালিদের মধ্যে আন্তঃযোগাযোগ না থাকায় পরস্পরের মাঝে অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে। আর সেটি উর্দুভাষীদের মধ্যে বেশি কারণ তারা সংখ্যায় কম। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে তাদের সঙ্গে যে বৈষম্য হয়েছে, তা চলমান থাকতে পারে না। আমরা যারা বাংলাভাষী বাঙালি তাদের এবিষয়ে কথা বলা উচিত, তাদের পাশে দাঁড়ানো উচিত। আমি নিজেও দাঁড়াবো, কথা বলবো।
রবিবার (১৭ নভেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরসি মজুমদার মিলনায়তনে রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট (বামরু) আয়োজিত 'ক্যাম্পের উর্দুভাষী জনগোষ্ঠীর মর্যাদাপূর্ণ ও স্থায়ী পুনর্বাসন: জাতীয় প্রতিনিধি সমাবেশ ও সংলাপ'র সমাপনী অধিবেশনে বক্তব্যকালে তিনি এ কথা বলেন।
সাবেক অধ্যাপক ও বামরুর সভাপতি সিআর আবরার বলেন, ‘বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে বাংলাদেশের ক্যাম্পগুলোতে বসবাসকারী উর্দুভাষীদের অধিকার বঞ্চিত করা হচ্ছে। তাদের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। তাদের সন্তানরা পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছে, স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এখনই তাদের অধিকার আদায় করতে গেলে তথ্য, তত্ত্ব ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করতে হবে। এগুলো আমরা শুরু করেছি, তবে বাস্তবায়নের জন্য সবাই এগিয়ে আসতে হবে।’
নারী অধিকারকর্মী শিরীন হক বলেন, ‘আমি কিছু ক্যাম্প নিয়ে কাজ করছি। সেখানে দেখেছি, নারীদের প্রতি বৈষম্য-নির্যাতন সেটি সব জায়গায় এক। উর্দুভাষীদের প্রতি আহ্বান আপনারা বিভিন্ন বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন, আপনারা নারীদের প্রতি নির্যাতন করবেন না। আপনারা সবার অধিকার নিয়ে কথা বলুন, নিজেদের অধিকারও আদায় করুন। ’
সাংবাদিক ফারুক ওয়াসিফ বলেন, ‘বাংলা ভাষায় আমাদের শহীদ মিনার উর্দু ভাষা থেকে কিন্তু আমরা তাদেরকে স্বীকৃতি দিচ্ছি না। এটা শুধু বাংলাদেশের জনগণকে দায়বদ্ধ করে না, একটি বিশেষ ধরনের উগ্র জাতীয়তাবাদ থেকে করা হতো এবং যেখানে সম্পত্তির ব্যাপার আছে দখলের ব্যাপার আছে সেখানে এমন বিষয়গুলোকে দাঁড় করানো হয়।’
বাংলাদেশের বিহারী ক্যাম্পের বাসিন্দা ও বর্তমান নেদারল্যান্ডসের নাগরিক মো. হাসান অনলাইনে যুক্ত হয়ে বলেন, ‘১৯৪৭ সালে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কারণে যখন মাইগ্রেট শুরু হয়। তখন আমরা শুধু বিহার থেকে আসিনি, উত্তরপ্রদেশসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে আসি। তখন পাকিস্তান সরকার আমাদের মোহাজের হিসেবে আখ্যা দেয়। স্বাধীনতা পর্যন্ত আমাদের কোনো নাগরিকত্ব ছিলো না। কিন্তু স্বাধীনতা পর আমাদের স্বাধীনতা বিরোধী হিসেবে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে। আমরা নাগরিকত্ব পেয়েছি কিন্তু বাস্তবায়ন হচ্ছে না। আমরা এসবের বাস্তবায়ন চাই।’
মিরপুর ক্যাম্পের অধিবাসী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইয়াসিন বলেন, ‘বাংলাদেশ সংবিধানের ২৮ নম্বর অনুচ্ছেদ ক-তে গোষ্ঠী, বর্ণ ইত্যাদি বৈষম্য নিরসনে সমঅধিকারের কথা বললেও ভাষার ভিন্নতার ক্ষেত্রে বলা হয়নি।’
এসময় তিনি তিনটি দাবি উত্থাপন করে বলেন, ‘সংবিধানে সংস্কারের সকল ভিন্ন ভাষাভাষীদের জন্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বাংলাদেশের আইন বিভাগ ও শাসন বিভাগ থেকে সরকারিভাবে উর্দুভাষীদের বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া। দেশের সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েগুলোতে আমাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা।’