বিডিআর হত্যাকাণ্ডে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র চিহ্নিত করা হবে: তদন্ত কমিশনের সভাপতি

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের তদন্ত কমিশনের সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) আ ল ম ফজলুর রহমান বলেছেন, ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সঙ্গে দেশি-বিদেশি শক্তি ও ষড়যন্ত্রের যারাই জড়িত, সবাইকে চিহ্নিত করা হবে। তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রতিবেদন তৈরি করা হবে।

বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) সকালে বিজিবির সদরদফতরে ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনা পুনঃতদন্তে সাত সদস্যের স্বাধীন কমিশনের প্রথম বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন।

তদন্ত কমিশনের সভাপতি বলেন, আজ (বৃহস্পতিবার) ছিল আমাদের প্রথম সভা। আমাদের যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, সেটাকে আমরা গুরুত্ব দায়িত্ব হিসেবে নিয়েছি। আল্লাহ উপরে নির্ভয় করে আমাদের বুদ্ধি, বিবেচনা দিয়ে বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করার চেষ্টা করবো। আমরা কোনও রকম পক্ষপাত করবো না। কোনও কিছুতে প্রভাবিত হবো না, এই নিশ্চয়তা আমি আপনাদের দিতে পারি। যেহেতু এটা একটা জাতীয় সমস্যা, হাজার বছরে এই ধরনের ঘটনা পৃথিবীতে ঘটেনি।

তিনি বলেন, আমরা এই দায়িত্ব পেয়ে বর্মতান সরকারের প্রধান উপদেষ্টাকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। তিনি এই সমস্যাকে চিহ্নিত করে সমাধানের জন্য চেষ্টা করছেন। আমি আপনাদের (সাংবাদিক) মাধ্যমে এ জাতিকে অবহিত করতে চাই, এই বিডিআর বিদ্রোহের পরবর্তী সময়ে যারা নিগৃহীত হয়েছেন, নিহত হয়েছেন, বঞ্চিত হয়েছেন— এসব কিছুকে আমরা নজরে নিবো। আন্তরিকতার সঙ্গে আমরা তাদের ক্ষতকে নিরাময় করার চেষ্টা করবো। আমাদের তদন্ত শেষ হলে যেনো এই প্রশ্ন না উঠে— আমরা আমাদের কাজ শেষ করতে পারিনি। সে বিষয়ে আমরা সজাগ থাকবো। 

মেজর জেনারেল (অব.) আ ল ম ফজলুর রহমান, আমরা কতগুলো বিষয় চিহ্নিত করেছি— এই পুরো অপারেশন কিন্তু অন্য প্রফেশনের মতো নয়। এখানে দেশি-বিদেশি শক্তি ষড়যন্ত্র চিহ্নিত করতে আমাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কাজেই আমাদের বাড়তি কিছু বিষয় আমরা এক্সপ্রেস করবো। আমাদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক নিরাপত্তা, পরিবহন সুবিধা, সাচিবিক সুবিধা এবং আমরা কোথায় অফিস করবো। এবং এই কমিশনের প্রধানকে অ্যাডভাইজার পদমর্যাদায় করতে হবে। কেননা আমাদের দেশি-বিদেশি সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। কমিশনের অন্য সদস্যদের এপ্রিলেডিভিশনের বিচারকের মর্যাদা দিতে আমরা আবেদন জানাবো। এসব প্রক্রিয়া শেষে আমাদের পরবর্তী মিটিংয়ে তদন্তের কাজের জন্য স্টেটমেন্ট নেওয়া শুরু করবো। প্রতিটি মিটিংয়ে পর যেসব বিষয়ে জাতিকে জানানো প্রয়োজন, সেগুলো আমরা জানিয়ে দিবো। যাতে সবাই আমাদের কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে পারেন। 

তিনি বলেন, আমাদের কমিশনে দেশি-বিদেশি চারজন বিশেষজ্ঞ আইনজীবীকে সম্পৃক্ত করার জন্য বলেছি। এই কমিশনের আমরা বাংলাদেশ থেকে দুইজনকে যুক্ত করবো। এছাড়াও আন্তর্জাতিক মানের দুইজন বিদেশি আইনজীবী যারা ক্রিমিনাল ও আন্তর্জাতিক আইনঅজ্ঞ এবং সিভিল ও মিলিটারি ল বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেওয়া জন্য আবেদন করবো।

অন্তর্বর্তী সরকারে গঠিত তদন্ত কমিশনের প্রথম বৈঠকে কমিশনের অন্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। তারা হলেন- মেজর জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. সাইদুর রহমান (বীর প্রতীক), অবসরপ্রাপ্ত যুগ্মসচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ, অবসরপ্রাপ্ত ডিআইজি ড. এম আকবর আলী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. শরীফুল ইসলাম এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক মো. শাহনেওয়াজ খান চন্দন।