পুলিশের এএসপি পরিচয় দিয়ে অভিনব কৌশলে প্রতারণা করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া ফখরুল ইসলাম বিজয় (৩০) নামে এক প্রতারককে গ্রেফতার করেছে ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট।
গতকাল রবিবার (৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের পূর্ব লামাপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে সিটিটিসি। সোমবার (৬ ডিসেম্বর) এ তথ্য জানান ডিএমপি জনসংযোগ বিভাগের উপ- কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান।
তিনি জানান, গত ২৩ অক্টোবর আল-আমিন ঢালী নামে এক ব্যক্তির ম্যাসেঞ্জারে একটি ভুয়া ফেসবুক আইডি থেকে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও পাঠানোর ঘটনায় তিনি গুলশান থানার সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরদিন (২৪ অক্টোবর) বিকালে ওই প্রতারক ফখরুল আল-আমিনকে ফোন করে হোয়াটসঅ্যাপে ওই জিডির কপি পাঠিয়ে নিজেকে পুলিশের অ্যান্টি-টেররিজম ইউনিটের (এটিইউ) এএসপি পরিচয় দিয়ে এটিইউর সাইবার ক্রাইম বিভাগ এ বিষয়ে কাজ করবে বলে জানায়। এ জন্য ওই প্রতারক ফখরুল ভুক্তভোগী আল-আমিনের কাছে থেকে টাকা দাবি করেন। আল-আমিন সরল বিশ্বাসে প্রথমে তাকে দুই হাজার ১৯০ টাকা দেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে তার কাছ থেকে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে সর্বমোট পাঁচ
লাখ ৮৫ হাজার টাকা নেন ফখরুল। এরপর জিডির সমস্যা সমাধান করতে তার কাছ থেকে আরও দশ লাখ টাকা দাবি ফখরুল। এসময় আল-আমিন বুঝতে পারেন, তিনি প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী আল-আমিন টাকা দেওয়া বন্ধ করে দিলে প্রতারক ফখরুল তার ফেক ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। এ ঘটনায় আল-আমিনের গত ৬ ডিসেম্বর গুলশান থানায় একটি প্রতারণার মামলা দায়ের করেন।
ডিএমপির এই কর্মকর্তা আরও জানান, ভুক্তভোগী আল-আমিনের মামলাটি সিটিটিসির কাছে দেওয়া হলে এ বিষয়ে ছায়া তদন্ত শুরু করে সংস্থাটি। মামলায় তদন্ত এবং তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় রবিবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের পূর্ব লামাপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রতারক ফখরুল ইসলাম বিজয়কে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ফখরুল জানান, কৌশলে প্রতারণার মাধ্যমে বিভিন্ন থানা থেকে কিংবা অনলাইনে দায়েরকৃত জিডির কপি সংগ্রহ করতো সে। পরবর্তীতে নিজেকে অ্যান্টি-টেররিজম ইউনিটের (এটিইউ) সাইবার ক্রাইমের এএসপি পরিচয় দিয়ে ওইসব জিডির সমস্যা সমাধান করার আশ্বাস দিয়ে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নিতো।