ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার বিচার দাবি ঢাবি সাংবাদিকতা বিভাগের

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করে বিচার দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় তারা এ ধরনের ঘটনাকে ন্যাক্কারজনক আখ্যা দিয়ে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

বক্তারা বলেন, ‘স্টুডেন্ট ফর সভারেন্টি’র দুই জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্ত এরপর আর গ্রেফতার হবে কিনা আমরা জানি না। আমরা প্রশাসনকে বলবো, কারা হামলা করেছে এটা ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। রূপায়া শ্রেষ্ঠার মাথায় দুষ্কৃতীকারীরা উপর্যপুরী আঘাত করে। আমরা হামলাকারীদের দ্রুত বিচার চাই।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক খোরশেদ আলম বলেন, ‘ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যেটা হয়েছে, সেটা কোনও সভ্য সমাজে হতে পারে না। এখনও ছয় মাস হয়নি এর মধ্যেই আমাদের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করা হলো। এ সরকার শিক্ষার্থীদের সরকার। এরপরও কেনও তাদের ওপর হামলা করা হয়েছে। যারা হামলার সঙ্গে জড়িত তাদের দ্রুত শাস্তির আওতায় আনতে হবে।’

হামলায় আহত হওয়া গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ববি বিশ্বাস বলেন, ‘বুধবার (১৫ জানুয়ারি) আমরা যখন মিছিল নিয়ে মতিঝিলে যাই তখন মিনিটের মধ্যে হামলা করে। স্টাম্পে পতাকা বেঁধে নিয়ে তারা আমাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পরে। আমরা একদম নিরস্ত্র ছিলাম। তারা প্ল্যান করে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলা করেছে।’

সমাবেশ আরও ছিলেন– বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, সহযোগী অধ্যাপক কাজলী শেহরিন, সহকারী অধ্যাপক মার্জিয়া রহমান ও বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (১৫ জানুয়ারি) ‘সংক্ষুব্ধ আদিবাসী ছাত্র-জনতার’ ব্যানারে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর একদল লোক পাঠ্যবইয়ে গ্রাফিতিটি পুনর্বহালের দাবিতে এনসিটিবির সামনে কর্মসূচি পালন করতে যান। একই সময়ে পাঠ্যপুস্তকে ‘আদিবাসী’ শব্দ প্রবেশ এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানবিরোধী অখণ্ড ভারতের কল্পিত গ্রাফিতি সংযোজনের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তিসহ পাঁচ দফা দাবিতে ‘স্টুডেন্ট ফর সভরেন্টি’ নামে একটি সংগঠন বুধবার সকালে এনসিটিবি ভবন ঘেরাও এর কর্মসূচি দেয়। সকাল থেকেই ‘স্টুডেন্ট ফর সভরেন্টি’র ব্যানারে একদল লোক এনসিটিবির সামনে অবস্থান নিয়ে ছিলেন। দুপুর পৌনে ১২টার দিকে সেখানে যান ‘সংক্ষুব্ধ আদিবাসী ছাত্র-জনতা’র ব্যানারধারীরা।

‘সংক্ষুব্ধ আদিবাসী ছাত্র-জনতা’র ব্যানারধারীরা এনসিটিবির সামনে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পুলিশ গিয়ে দুই পক্ষকে সরিয়ে দিয়ে মাঝে অবস্থান নেয়। তখন দুই পাশ থেকে দুই পক্ষ পরস্পরবিরোধী স্লোগান দিতে থাকে। দুপুর ১টার দিকে কিছু লোক সংক্ষুব্ধ আদিবাসী ছাত্র-জনতার ব্যানারে আসা দলটির ওপর হামলা চালায়। এতে সাংবাদিক ও নারীসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। তারই প্রতিবাদে আজকের এই কর্মসূচি ছিল।