অ্যাপসের মাধ্যমে বিনিয়োগে অধিক লাভের আশ্বাসে ১৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ!

অ্যাপসের মাধ্যমে বিনিয়োগ ও অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে সাড়ে ১৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা একটি চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) রাজধানীর ডেমরা এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলো– পাপ্পু কুমার সেন (২৮) ও মো. কাওসার (২৭)। তাদের কাছ থেকে ১ হাজার ১৫০টি সিম কার্ড, একটি হার্ডডিস্ক, মোবাইল ফোনসহ অন্যান্য আলামত জব্দ করা হয়।

ওই চক্রের মাধ্যমে প্রতারণার শিকার হয়ে বুধবার (২২ জানুয়ারি) ধানমন্ডি থানায় একটি মামলা করেন এক ভুক্তভোগী। মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, ওই ভুক্তভোগী ফেসবুকে আন্তর্জাতিক স্টক মার্কেটের একটি বিজ্ঞাপন দেখতে পান। সেই লিংকে প্রবেশ করেন। এরপর অজ্ঞাত একটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে তাকে কিছু মেসেজ পাঠানো হয়। পরে হোয়াটসঅ্যাপে একটি অ্যাকাউন্ট  খোলার নির্দেশনা আসে। ভুক্তভোগী অ্যাপসে প্রবেশ করে নাম, এনআইডি, মোবাইল ফোন নম্বর দিয়ে অ্যাকাউন্ট তৈরি করেন। ওই অ্যাপসে তার একটি ডিজিটাল ওয়ালেট তৈরি হয়। চক্রের সদস্যরা তাকে দুটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত করে। ওইসব গ্রুপে বাদীর পরিচিত অনেকেই যুক্ত ছিলেন।

এজাহার থেকে আরও জাগা গেছে, চক্রের কথায় ভুক্তভোগী বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে মোট ১৩ লাখ ৫৬ হাজার ৪৮৬ টাকা বিনিয়োগ করেন। ওই অ্যাপে বিনিয়োগের পর ডিজিটাল ওয়ালেটে ভুক্তভোগীর টাকা বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে লাভসহ প্রায় ৬৪ লাখ ৫ হাজার ২৮৭ টাকা প্রদর্শিত হয়। আসামিরা বাদীর নামে সিটি ব্যাংক, কারওয়ান বাজার ব্রাঞ্চের মাধ্যমে ৫ হাজার টাকা ডিপোজিট করে। এরপর আর কোনও টাকা পায় না ভুক্তভোগী। পরে ভুক্তভোগী আসামিদের কাছে বিনিয়োগের টাকা ফেরত চান। কিন্তু তারা টাকা না দিয়ে বিনিয়োগ করতে বলে। এক পর্যায়ে ভুক্তভোগী প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে ধানমন্ডি থানায় মামলা করেন।

সিআইডির সূত্রে জানা গেছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে বিভিন্ন জায়গা থেকে ছবি, ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও এনআইডি কার্ড ছাড়া বেশি টাকা দিয়ে অবৈধভাবে মোবাইল সিম সংগ্রহ করে। বিভিন্ন টেলিগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপসহ অন্যান্য মাধ্যমে দেশি-বিদেশি ক্লায়েন্টদের কাছে মোবাইল নম্বরগুলো উচ্চমূল্যে বিক্রি করে। দেশি-বিদেশি ব্যক্তিরা এসব নম্বর দিয়ে টেলিগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলে বিভিন্ন ব্যক্তিকে যুক্ত করে এবং তাদের অধিক মুনাফার লোভ দেখিয়ে বিনিয়োগের অফার দেয়। অনেকে বেশি মুনাফা লাভের আশায় তাদের ফাঁদে পড়ে। তাদের তৈরি অ্যাপসে বিভিন্ন তথ্য দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলে সেখানে লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে। পরে ভুক্তভোগীদের কোনও মুনাফা না দিয়ে কৌশলে বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নিয়ে দেশের বাইরে পাচার করে ওইসব চক্র।