বাংলা একাডেমির সাহিত্য পুরস্কারের সংশোধিত তালিকা থেকে নিজের নাম বাদ পড়ায় ধন্যবাদ জানিয়েছেন লেখক-গবেষক ড. মোহাম্মদ হাননান। তিনি বলেন, ‘নাম বাদ দেওয়ায় আমি যে দলহীন, গোত্রহীন একজন লেখক তা প্রমাণ হয়েছে।’
বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতির মাধ্যমে এ তথ্য জানান তিনি। বিবৃতির বিষয়টি তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে লেখালেখি করছি। সব মিলিয়ে আমার প্রকাশনা সংখ্যা এখন ১৩৪টি। ১৯৯১ সালে আমার লেখা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস প্রকাশিত হয়। পরে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আরও কাজ করি। ২০২৩ সালে প্রকাশিত হয় বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে আলেম সমাজের ভূমিকা শীর্ষক গ্রন্থ। তথ্যগুলো দিলাম এ জন্য যে আমার সম্পর্কে মানুষ খুব কমই জানে।’
তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘসময় ধরে লিখলেও রাষ্ট্রীয় কোনও পুরস্কারের জন্য মনোনীত হইনি, গত ১৬ বছরেও না। এ বছর আমার জন্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার ঘোষণার পর আমার নাম বাদ দেওয়ায় আমি যে দলহীন, গোত্রহীন একজন লেখক তা প্রমাণ হয়েছে। আমি এ জন্য স্বস্তি অনুভব করছি।’
পুরস্কারের তালিকা থেকে নিজের নাম বাদ যাওয়ায় কারও প্রতি কোনও খেদ নেই, অভিযোগ নেই। তবু সবাই শান্ত থাকুক বলেও জানিয়েছেন তিনি।
সাহিত্য পুরস্কারের জন্য ঘোষিত তালিকা থেকে তিন জনকে বাদ দিয়ে নতুন তালিকা প্রকাশ করেছে বাংলা একাডেমি। বাদ পড়া তিন জন হলেন– মোহাম্মদ হাননান, ফারুক নওয়াজ ও সেলিম মোরশেদ। এর আগে গত ২৩ জানুয়ারি ‘বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৪’ ঘোষণা করা হয়। পরে ২৫ জানুয়ারি তালিকাটি স্থগিত করা হয়। তখন বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, কারও কারও বিষয়ে ‘কিছু অভিযোগ আসায়’ তালিকাটি স্থগিত করা হলো। আগের তালিকায় মোহাম্মদ হাননানকে মুক্তিযুদ্ধ ও ফারুক নওয়াজকে শিশুসাহিত্যে পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়। আর কথাসাহিত্যিক সেলিম মোরশেদ পুরস্কারের জন্য মনোনীতদের তালিকা স্থগিতের পর ২৭ জানুয়ারি বাংলা একাডেমি পুরস্কার প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দেন। তাকে কথাসাহিত্যে পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছিল।