মাসে ২ থেকে আড়াই লাখ টাকা বেতনে কাজের প্রলোভনে রাশিয়ায় মানবপাচার করছে একটি চক্র। ওই দেশে যাওয়ার পর ভুক্তভোগীদের সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়ে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিতে বাধ্য করা হয়। এতে রাজি না হলে তাদের ওপর চালানো হয় নির্যাতন। এ জন্য কেউ কেউ প্রশিক্ষণ ক্যাম্প থেকে পালিয়ে যান। ওই চক্তের এক নারী সদস্যকে গ্রেফতারের পর এমন তথ্য জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) নেপালে পালিয়ে যাওয়ার সময় মানবপাচারকারী ওই চক্রের এক সদস্যকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার নাম ফাবিহা জেরিন তামান্না।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান বলেন, ‘তামান্না ড্রিম হোম ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস লিমিটেডের অংশীদার। ওই চক্রের সদস্যরা রাশিয়ায় মাসে ২ থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বেতনে চকলেট ফ্যাক্টরি, ক্লিনার অথবা বাবুর্চির কাজের প্রলোভন দেখিয়ে ১০ জনকে প্রথমে সৌদি আরব ওমরাহ ভিসায় পাঠায়। সেখানে হজ করানোর পর তাদের রাশিয়ায় নিয়ে গিয়ে এক সুলতানের কাছে বিক্রি করে দেয়। সুলতান তাদের দাস হিসেবে রাশিয়ান সৈন্যদের কাছে হস্তান্তর করে।’
তিনি বলেন, ‘প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ না দিয়ে ভুক্তভোগীদের সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়ে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিতে বাধ্য করা হয়। তারা অনিচ্ছা প্রকাশ করলে চালানো হয় নির্যাতন। খাবার বন্ধ করে দেওয়ার মাধ্যমে তাদের মানসিক শক্তি ভেঙে দেওয়া হয়। পরে তারা বাধ্য হয়ে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নেন।’
সিআইডির এই কর্মকর্তা জানান, যুদ্ধে নাটোর সিংড়া থানার হুমায়ুন কবির নামে এক ব্যক্তি নিহত এবং ঢাকা কেরানীগঞ্জের আমিনুল গুরুতর আহত হয়েছেন।
জসীম উদ্দিন খান বলেন, ‘ওই ১০ জনের একজন নরসিংদীর পলাশ থানার বাসিন্দা মো. আকরাম হোসেন (২৪) প্রশিক্ষণ ক্যাম্প থেকে পালিয়ে যান। পরে তিনি গত ২৬ জানুয়ারি দেশে ফিরে আসেন। ফিরে এসে তিনি অন্যান্য ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তার কাছ থেকে তথ্য পেয়ে আমিনুলের স্ত্রী গত ২ ফেব্রুয়ারি বনানী থানায় একটি মামলা করেন। মামলার সূত্র ধরে তামান্নাকে গ্রেফতার করে সিআইডি।’
আসামিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ‘ওই ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে তামান্না। এই চক্রের ফাঁদে পড়ে ১০ জনের আরেকটি দল সৌদি আরবে অবস্থান করছে। প্রতারণার বিষয়টি জানতে পেরে তারা রাশিয়া যেতে অস্বীকার করেছে। এতে তাদের পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া হয়েছে। তাই তারা সৌদি আরবে কাজ করতে পারছে না, দেশেও ফিরতে পারছে না। এ চক্রের আরেক সদস্য তামান্নার ভাই তুহিন ভুক্তভোগীদের রাশিয়ায় যেতে উদ্বুদ্ধ করে। সে বর্তমানে রাশিয়ায় অবস্থান করছে।’
ভুক্তভোগীদের দেশে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করছে সিআইডি। একইসঙ্গে মানবপাচারের এই নেটওয়ার্ক পুরোপুরি ভেঙে দেওয়ার পাশাপাশি তদন্ত এবং গ্রেফতার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা হয়েছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।