লাগাতার কর্মসূচি ঘোষণা জাস্টিজ ফর বিডিআরের

লাগাতার কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্য এবং তাদের স্বজনদের সংগঠন জাস্টিজ ফর বিডিআর। মঙ্গলবার এ কর্মসূচি শুরু করবেন তারা।

সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কর্তৃক আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন তারা।

লিখিত বক্তব্য পাঠকালে ৬ দফা উপস্থাপন করেন সংবাদ সম্মেলনে জাস্টিজ ফর বিডিআরের সংগঠক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আয়াতুল্লাহ বেহেস্তি।

দফাগুলো হলো-

১. পিলখানার ভেতরে ও বাইরে ১৮টি বিশেষ আদালত ও অধিনায়কের সামারি কোর্ট গঠন করে যেসকল বিডিআর সদস্যদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে তাদের সকলকে চাকরিতে পুনর্বহাল করতে হবে এবং ক্ষতিপূরণ ও রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা।

২. ইতোমধ্যে হত্যা মামলায় খালাসপ্রাপ্ত এবং সাজা শেষ হওয়া জেল বন্দি বিডিআর সদস্যদের অনতিবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রহসনের বিস্ফোরক মামলা বাতিল করা।

৩. গঠিত কমিশন স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করার জন্য প্রজ্ঞাপনে উল্লেখিত ব্যতীত শব্দ এবং কার্যপরিধি ২ এর (ঙ) নং ধারা বাদ দিতে হবে। একইসাথে স্বাধীন তদন্ত রিপোর্ট সাপেক্ষে অন্যায়ভাবে দণ্ডিত সর্বপ্রকার নিরপরাধ বিডিআর সদস্যদের মুক্তি দিতে হবে এবং পিলখানা হত্যাকাণ্ডের সঠিক কারণ উদঘাটন, মূল ষড়যন্ত্রকারী, হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা।

৪. পিলখানা হত্যাকাণ্ডে শহীদ হওয়া ৫৭ সেনা কর্মকর্তা, ১০ জন বিডিআর সদস্যসহ সর্বমোট ৭৪ জনের হত্যাকারীর বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একইসাথে জেলের ভেতর মারা যাওয়া প্রত্যেক বিডিআর সদস্যের মৃত্যুর সঠিক কারণ উন্মোচন করতে হবে। অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়ে থাকলে দায়ী সকলকে বিচারের আওতায় আনা।

৫. স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ধারণকারী বিডিআর নাম ফিরিয়ে আনা।

৬. পিলখানার হত্যাকাণ্ডে সকল শহীদের স্মরণে জাতীয় দিবস ঘোষণা করতে হবে এবং শহীদ পরিবারের সর্বপ্রকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

আয়াতুল্লাহ বেহেস্তি বলেন, " মঙ্গলবার থেকে লাগাতার কর্মসূচি আমরা পালন করবো। সকাল ৯টা থেকে আমরা শহীদ মিনারে অবস্থান করবো। ৬ দফা দাবি আদায় না হওয়া অব্দি আমরা কর্মসূচি দেবো। "

দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, "শহীদ মেজর তানভীর হায়দার নুর এর লাশ পোড়ানো হয়েছে যা জেল বন্দি বিডিআর সদস্যরা বলেছে। দরবার হলে হত্যার শিকার দুইজন ক্যাপ্টেন ছিল, একজনের লাশ পরিবার থেকে সনাক্ত করে,  অন্যান্য পোড়া লাশের মধ্যে ১ জন ক্যাপ্টেন ছিল। বর্তমানে এ বিষয়টি ঢেকে দেয়ার অভিপ্রয়াস চলছে যার কারণে সেনা সদর দপ্তরে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে শহীদ পরিবারদের নিয়ে শহীদ সেনা দিবস করার মিটিং হলেও মেজর তানভীর এর স্ত্রীকে জানানো হয় নাই, পরবর্তীতে ফেসবুকের মাধ্যমে বিষয়টি জানা যায়।"

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সৈনিক ফয়জুল আলম, হাবিলদার মাহবুবুর রহমানসহ প্রমুখ।