বইমেলায় প্রকাশনা স্টলে হামলার ঘটনাকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত বলে মন্তব্য করেছেন দেশের ১২৪ জন লেখক, শিল্পী ও অধিকারকর্মী। এক যৌথ বিবৃতিতে তারা হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও বইমেলার নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে তারা বলেন, ফেসবুকে আগাম হুমকির পর সোমবার সব্যসাচী প্রকাশনীর স্টলে হামলা চালানো হয়। এই হামলা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং ধারাবাহিক সহিংসতার অংশ।
বিবৃতিতে বলা হয়, ২০০৪ সালে হুমায়ুন আজাদের ওপর হামলা, ২০১৫ সালে অভিজিৎ রায় ও প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপনের হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক মাজার ভাঙচুর, নারী ফুটবলারদের ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের আল্টিমেটামের মতো ঘটনাগুলো একই সহিংস প্রবণতার ধারাবাহিকতা।
তারা উল্লেখ করেন, বিশেষত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে ভিন্নমতাবলম্বীদের দমন-পীড়ন বেড়েছে। প্রথমে উগ্রবাদী গোষ্ঠী প্রচারণা চালায়, পরে সরকারের নিষ্ক্রিয়তা ও পরোক্ষ মদতে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। তারা বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পরও একইভাবে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়েছে।
বর্তমান বইমেলার নিরাপত্তাব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ অকার্যকর উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, “নিরাপত্তা বহুগুণে বাড়াতে হবে, হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় বাংলা একাডেমির মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এর ব্যর্থতার দায় নিতে হবে।”
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন— গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য ও অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সামিনা লুৎফা, নৃবিজ্ঞানী নাসরিন খন্দকার, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক গোলাম সারওয়ার, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের শিক্ষক লাবনী আশরাফি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মাসউদ ইমরান, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক তুহিন ওয়াদুদ, লেখক ও গবেষক কল্লোল মোস্তফা, আইনজীবী মানজুর আল মতিন ও মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হারুন উর রশীদ প্রমুখ।